0%

‘ইস্তফা নয়, ফাঁসি চাই!’, বিচার চেয়ে রাজপথে আত্মঘাতী NEET পরীক্ষার্থীর মা

AK Bangla Desk: নিট (NEET) পরীক্ষা বিতর্ক ও প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের পর বাড়তে থাকা চাপের মুখে শনিবার পদত্যাগ করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তবে শিক্ষামন্ত্রীর এই ইস্তফায় বিন্দুমাত্র সন্তুষ্ট হতে পারেননি প্রতারিত ও সন্তানহারা পরিবারগুলো। মেয়ে আকাঙ্খা চতুর্বেদীর সুবিচারের দাবিতে এবার রাজপথে নেমেছেন মা নীলম চতুর্বেদী। তাঁর স্পষ্ট ও কড়া বার্তা, “মন্ত্রী ইস্তফা দিলেই কি ছারখার হয়ে যাওয়া পরিবারগুলো সুবিচার পাবে? প্রশ্নফাঁসের নেপথ্যে যারা জড়িত, তাদের ফাঁসির দড়িতে ঝোলানো হোক!”

মূলত মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা চতুর্বেদী পরিবার মেয়ের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নপূরণ করতে নাগপুরে পাড়ি দিয়েছিলেন। সেখানকার এক স্বনামধন্য কোচিং ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়ে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিটের প্রস্তুতি নিচ্ছিল ১৮ বছর বয়সি তরুণী আকাঙ্খা। গত ৩ মে নিট পরীক্ষা দেওয়ার পর যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ছিল সে। পরীক্ষার পারফরম্যান্স দেখে সাড়ে ছশোরও বেশি নম্বর পাওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত ছিল আকাঙ্খা ও তার পরিবার।

কিন্তু পরবর্তীতে প্রশ্নফাঁসের দায়ে পরীক্ষা বাতিল বলে ঘোষিত হতেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে সে। আহার-নিদ্রা ত্যাগ করে একা একা সময় কাটাতে শুরু করে তরুণী। গত ২০ মে আর কোনও পথ না পেয়ে চরম সিদ্ধান্ত বেছে নেয় আকাঙ্খা। মৃত্যুর আগে নিজের সু*ইসাইড নোটে মা-বাবার উদ্দেশে সে লিখে যায়, “তোমরা বিশ্বাস রাখতে যে আমি ডাক্তার হব। কিন্তু দ্বিতীয়বার পরীক্ষাটা কেমন হবে তার নিশ্চয়তা নেই, আর নিট দেওয়ার সাহস আমার মধ্যে অবশিষ্ট নেই। মা, বাবা আমাকে ক্ষমা কোরো।”

একমাত্র সম্ভাবনাময় কন্যার এই মর্মান্তিক পরিণতি মেনে নিতে না পেরে হৃদরোগে আক্রান্ত হন আকাঙ্খার বাবা, যাঁর শরীর এখন পুরোপুরি পঙ্গু হয়ে গিয়েছে। অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে নীলম চতুর্বেদী বলেন, “আমার মেয়ে বেঁচে থাকলে সব সামলে নিত। আজ এই বৃদ্ধ ও পঙ্গু দম্পতিকে কে দেখবে? ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করে কি দায় এড়াতে পারেন? পাবলিক এক্সামিনেশন অ্যাক্টে সর্বোচ্চ ১০ বছরের জেল বা কোটি টাকা জরিমানার যে বিধান দেওয়া হয়েছে, তা যথেষ্ট নয়। এই অপরাধীদের একমাত্র শাস্তি হওয়া উচিত মৃত্যুদণ্ড।”

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker