এই দেশের রাজনীতিতে বড় পালাবদল! নির্বাচনে পড়ুয়াদের কাছে পরাজিত খোদ প্রেসিডেন্ট

সবদিক নিউজ: সার্বিয়ার (Serbia) রাজনীতিতে বড়সড় পালাবদলের দাবি ঘিরে চর্চা তুঙ্গে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে থাকা প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুসিচের (Aleksandar Vucic) বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনের (Gen-z Protest) সমর্থনে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক শক্তির সাফল্যের খবর সামনে এসেছে। প্রাথমিক নির্বাচনী ফলাফলের দাবি অনুযায়ী, ২৫০ আসনের সংসদে ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’ ১৩৫ থেকে ১৪০টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, ভুসিচের দল সার্বিয়ান প্রোগ্রেসিভ পার্টির ঝুলিতে যেতে পারে প্রায় ১০৫টি আসন। এই ফলাফল চূড়ান্ত হলে সার্বিয়ার রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন ঘটতে পারে। রবিবার টেলিভিশনে ভাষণ দিতে গিয়ে ভুসিচও পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনে তাঁদের হার হয়েছে এবং স্টুডেন্ট লিস্ট জয় পেয়েছে। যদিও এই নির্বাচনী ফলাফল ও পরাজয় স্বীকারের খবর স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
সার্বিয়ায় (Serbia) নির্বাচনে পড়ুয়াদের কাছে পরাজিত খোদ প্রেসিডেন্ট
নির্বাচনের ফলাফল সামনে আসার পর রাজধানী বেলগ্রেডের রাস্তায় হাজার হাজার মানুষের উচ্ছ্বাসের ছবি উঠে এসেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি। ২০১৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং পরে প্রেসিডেন্ট হিসেবে সার্বিয়ার (Serbia) রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন ভুসিচ। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর দল দেশের প্রশাসন ও রাজনীতিতে প্রভাব বজায় রেখেছে। সেই জায়গায় ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে গড়ে ওঠা একটি রাজনৈতিক মঞ্চের এগিয়ে থাকার দাবি স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন তৈরি করেছে। তবে স্টুডেন্ট লিস্টের প্রার্থীরা প্রত্যেকেই যে ছাত্রছাত্রী, তা নয়। ছাত্র সংগঠনগুলির সমর্থনে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষ এই মঞ্চের হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ৫৬ বছর বয়সি হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইলিয়া স্রদানোভিচ। ফলে এই মঞ্চকে শুধু ছাত্রদের রাজনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখলে আন্দোলনের বৃহত্তর সামাজিক চরিত্রটি উপেক্ষিত হতে পারে।
বারুইপুরের পর এবার গাইঘাটা! পুলিশের এনকাউন্টারে মৃত্যু ধর্ষণ-খুনে অভিযুক্তের, ঠিক কী ঘটেছিল?
এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনার পিছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের ছাত্র আন্দোলন। ২০২৪ সালে সার্বিয়ার নোভি সাদ শহরের একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ভেঙে ১৬ জনের মৃত্যু হয়। সেই দুর্ঘটনার পর থেকেই প্রশাসনিক গাফিলতি, দুর্নীতির অভিযোগ এবং সরকারি কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিয়ে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। ছাত্রছাত্রীরা ঘটনার পূর্ণ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের দাবিতে প্রতিবাদ শুরু করেন। ধীরে ধীরে সেই বিক্ষোভ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা বৃহত্তর সরকারবিরোধী আন্দোলনের রূপ নেয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ ছিল, দুর্ঘটনার মতো ঘটনা শুধু পরিকাঠামোর ত্রুটি নয়, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও দায়িত্ববোধের প্রশ্নও সামনে নিয়ে আসে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই প্রতিবাদ থেকেই ছাত্র সংগঠনগুলির সমর্থনে একটি রাজনৈতিক মঞ্চ গড়ে ওঠে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচনে সেই মঞ্চের সাফল্যের দাবি আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।
সার্বিয়ার এই ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছাত্রছাত্রীদের প্রতিবাদ এবং বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থার দুরবস্থা, জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধি, সরকারি ব্যয় এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষের জেরে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ হয়েছে। ফ্রান্সেও শিক্ষা ব্যবস্থার সমস্যা নিয়ে ছাত্রদের প্রতিবাদ বড় আকার নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। শিক্ষকের অভাব, স্কুলে অতিরিক্ত ভিড় এবং পরিকাঠামোর দুরবস্থা নিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলনে পরে শ্রমিক সংগঠন এবং মূল্যবৃদ্ধিতে চাপে থাকা সাধারণ মানুষের একাংশও যোগ দেন। ফলে শিক্ষাক্ষেত্রের নির্দিষ্ট দাবি ক্রমে বৃহত্তর সামাজিক অসন্তোষের সঙ্গে মিশে যায়। তবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের আন্দোলনের কারণ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি এক নয়; স্থানীয় সমস্যা এবং প্রশাসনের ভূমিকার উপর নির্ভর করেই প্রতিটি আন্দোলনের চরিত্র তৈরি হয়েছে।

সফল প্রথম ট্রায়াল রান, কবে চালু হবে বেলেঘাটা-আইটি সেন্টার মেট্রো? জানালেন রেলমন্ত্রী
ফ্রান্সের বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা নিয়েও সরকারি হিসাব ও আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে ফারাক রয়েছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর থেকে পরবর্তী সপ্তাহে দেশজুড়ে ১১০টি বিক্ষোভে প্রায় ৫ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের দাবি, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লক্ষ। এই পরিসংখ্যানই আন্দোলনের ব্যাপ্তি নিয়ে বিতর্কের ইঙ্গিত দেয়। সার্বিয়ার (Serbia) নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে প্রচারিত দাবিও যদি চূড়ান্তভাবে সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে আসা রাজনৈতিক শক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠতে পারে। তবে নির্বাচনী ফলাফল, আসনসংখ্যা এবং রাজনৈতিক পালাবদল সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে নির্ভরযোগ্য সূত্রে তথ্য যাচাই করা জরুরি।




