গঙ্গাবক্ষে ড্রোন শো-তে ফুটে উঠল বাংলার ঐতিহ্য! যোগ দিবসের প্রাক্কালে তিলোত্তমায় বর্ণাঢ্য আয়োজন

সবদিক নিউজ:যোগ দিবসের প্রাক্কালে কলকাতার (Kolkata) গঙ্গার তীর যেন এক অনন্য উৎসবের সাক্ষী থাকল। পশ্চিমবঙ্গ দিবস এবং আন্তর্জাতিক যোগ দিবসকে সামনে রেখে শনিবার সন্ধ্যায় প্রিন্সেপ ঘাট ও মিলেনিয়াম পার্ক এলাকায় আয়োজন করা হয়েছিল এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেগা ড্রোন শো এবং লেজার প্রদর্শনীর। এই বিশেষ আয়োজনের মূল আকর্ষণ ছিল ৩ হাজার ড্রোনের সমন্বয়ে তৈরি আলোকচিত্র, যেখানে বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে অভিনব প্রযুক্তির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। স্বামী বিবেকানন্দ, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতো মনীষীদের প্রতিকৃতি থেকে শুরু করে দ্বিতীয় হুগলি সেতু, দক্ষিণেশ্বর মন্দির এবং দুর্গাপুজোর মতো বাঙালির আবেগ, সবই ধরা পড়ে রাতের আকাশে।
যোগ দিবসের প্রাক্কালে কলকাতায় (Kolkata) বর্ণাঢ্য আয়োজন
শনিবার রাত ৮টা নাগাদ শুরু হওয়া ড্রোন শো কয়েক মিনিটের মধ্যেই দর্শকদের মুগ্ধ করে। অন্ধকার আকাশ জুড়ে লাল, নীল, সবুজ এবং সোনালি আলোর সমারোহে একের পর এক ভেসে ওঠে বাংলার পরিচিত প্রতীক। ড্রোন ও লেজার প্রযুক্তির যুগলবন্দিতে হুগলি নদীর বুকজুড়ে তৈরি হয় এক স্বপ্নময় পরিবেশ। নদীর জলে সেই আলোর প্রতিফলন গোটা দৃশ্যকে আরও মোহময় করে তোলে। হাজার হাজার মানুষ গঙ্গার ধারে ভিড় জমিয়ে এই বিরল দৃশ্য উপভোগ করেন। অনেকে মোবাইল ফোনে মুহূর্তগুলো বন্দি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, আবার কেউ কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে উৎসবের আবহে মেতে ওঠেন।
সমুদ্রে এবার ভারতের দাপট! রবিবার নৌসেনায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে একসঙ্গে ৩ যুদ্ধজাহাজ, উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী
এই আয়োজনের উদ্দেশ্য শুধু বিনোদন নয়, বরং আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের বার্তাকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আয়োজকদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে যোগাভ্যাসের গুরুত্ব, সুস্থ জীবনযাপনের প্রয়োজনীয়তা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের বার্তা আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরাই ছিল এই অনুষ্ঠানের অন্যতম লক্ষ্য। ড্রোন শো ও লেজার প্রদর্শনীর মাধ্যমে দর্শকদের কাছে সেই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরারও চেষ্টা করা হয়েছে।
সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটা থেকেই প্রিন্সেপ ঘাট ও মিলেনিয়াম পার্ক এলাকায় শুরু হয় সাংস্কৃতিক উৎসব। বাউল শিল্পীদের পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে মঞ্চ। পাশাপাশি ছিল বালুশিল্প প্রদর্শনী, ইন্টারঅ্যাকটিভ জোন, ফটোগ্রাফি কর্নার এবং শিশুদের জন্য বিশেষ বিনোদনের ব্যবস্থা। ‘পেইন্ট ইট, ক্লিক ইট’ প্রতিযোগিতাও দর্শকদের মধ্যে যথেষ্ট সাড়া ফেলে। স্থানীয় খাবারের স্টলগুলিতে উপচে পড়া ভিড় প্রমাণ করে, এই অনুষ্ঠান শুধু সাংস্কৃতিক নয়, সামাজিক মিলনক্ষেত্রেও পরিণত হয়েছিল। পরিবার-সহ বহু মানুষ সন্ধ্যা কাটাতে হাজির হয়েছিলেন এই উৎসবে।

পশ্চিমবঙ্গ দিবসে মোদীর ‘উপহার’! তারকেশ্বরে দাঁড়িয়ে একগুচ্ছ কেন্দ্রীয় প্রকল্পের উদ্বোধন
এবারের আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর এটাই প্রথম যোগ দিবস উদযাপন। সেই কারণেই উৎসবের মাত্রা ছিল অন্যবারের তুলনায় অনেক বেশি। ইতিমধ্যেই কলকাতায় (Kolkata) পৌঁছে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার রেড রোডে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। সেখানে গণযোগব্যায়াম প্রদর্শনী এবং প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ হবে অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ। তার আগে শনিবারের এই সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ও ড্রোন শো কার্যত যোগ দিবসের আবহকে আরও উজ্জ্বল করে তুলল এবং কলকাতাবাসীকে উপহার দিল এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।




