0%

গর্ভগৃহে অলৌকিক ঝরনা! ৪০০ বছরের প্রাচীন মন্দিরে ভূমি পেড়নেকর, আপনিও যাবেন নাকি?

শান্ত, স্নিগ্ধ গোয়ার এক কোণে লুকিয়ে অলৌকিক বিস্ময়। সমুদ্রের চেনা কোলাহল ছাড়িয়ে, সবুজ পাহাড়ে ঘেরা এক প্রাচীন মন্দির অবাক করে সকলকে। সম্প্রতি বলিউড অভিনেত্রী ভূমি পেড়নেকর তাঁর ৩৭তম জন্মদিনে পৌঁছে গিয়েছিলেন উত্তর গোয়ার পেডনে গ্রামের এই বিশেষ মন্দিরে। ৪০০ বছরের প্রাচীন এই মন্দিরের গর্ভগৃহের রহস্যময়তা আজও রোমাঞ্চ জাগায় ভক্তের মনে।

ছবি: সংগৃহীত

অনন্য স্থাপত্যের নিদর্শন
উত্তর গোয়ার এই ‘শ্রীদেবী মৌলি’র মন্দির শুধু ধর্মীয় কারণেই নয়, তার প্রাচীনত্ব ও অনন্য নির্মাণশৈলীর জন্যও বিখ্যাত। মন্দিরটির নকশায় রয়েছে ইন্দো-পর্তুগিজ স্থাপত্যের এক অপূর্ব ছাপ। কোঙ্কন উপকূলের এক অতি বিরল ও প্রাচীন শিল্পকলা ‘কাভি আর্ট’ দিয়ে সাজানো হয়েছে মন্দিরের ভেতরের দেওয়ালগুলি। লালচে-বাদামি মাটির আস্তরণ দিয়ে তৈরি এই নিখুঁত কারুকার্য যে কোনও ইতিহাসপ্রেমীর নজর কাড়বে। মন্দিরের মূল আকর্ষণ দেবী মহিষাসুরমর্দিনীর এক বিশাল ও মহিমান্বিত মূর্তি। এছাড়াও চত্বরে ছড়িয়ে রয়েছে ঐতিহাসিক প্রাচীন অর্ধভগ্ন মূর্তি বিশেষ। পাশেই রয়েছে শিবলিঙ্গ এবং নন্দী মূর্তি সহ ভগবান রামেশ্বরের একটি ছোট্ট মন্দির।

ছবি: সংগৃহীত

গর্ভগৃহে বহমান অলৌকিক জলধারা
এই মন্দিরের সবচেয়ে বড় রহস্য ও অলৌকিকতা এর গর্ভগৃহে। দেবীর প্রাচীন পাথরের মূর্তির ঠিক পাশ দিয়েই বয়ে চলেছে এক স্ফটিক-স্বচ্ছ জলের প্রাকৃতিক ঝরনা। স্থানীয় জনশ্রুতি এবং ভক্তদের বিশ্বাস, দেবীর চরণ ছুঁয়ে আসা এই জলের রয়েছে অসামান্য ওষধি ও নিরাময় ক্ষমতা। বহু প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ বিশ্বাস করেন, এই পবিত্র জল পান করলে বা মাথায় ছোঁয়ালে শরীরের নানাবিধ রোগব্যাধি দূর হয়। বছরের পর বছর ধরে এই জলের ধারা অবিরত বয়ে চলেছে, যা আজও এক পরম বিস্ময়।

কেন যাবেন এই তীর্থক্ষেত্রে?
শহুরে ব্যস্ততা থেকে দূরে আধ্যাত্মিক শান্তি এবং প্রাচীনত্বের স্বাদ পেতে এখানে যাওয়া প্রয়োজন। স্থানীয় নিয়ম অনুযায়ী, এখানে এলে তিনটি মন্দিরে একসঙ্গে পুজো দিতে হয়। দেবী মৌলির দর্শনের পর ভক্তরা যান ৩০০ বছরের প্রাচীন রাবলনাথ মন্দিরে, যাকে এই বংশের রক্ষাকর্তা মনে করা হয়। সবশেষে ভগবতী দেবী মন্দিরে যাওয়ার মাধ্যমে এই সংক্ষিপ্ত তীর্থযাত্রা সম্পূর্ণ হয়।

ছবি: সংগৃহীত

কখন এবং কীভাবে যাবেন?
গোয়া ভ্রমণের জন্য অক্টোবর থেকে মার্চ মাস সবচেয়ে আরামদায়ক হলেও, এই মন্দিরের সবুজ রূপ দেখতে বর্ষাকাল বা তার ঠিক পরেই যাওয়া সবচেয়ে ভালো।

  • আকাশপথে: নিকটবর্তী বিমানবন্দর হল উত্তর গোয়ার ‘মনোহর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ (Mopa)। সেখান থেকে পেডনে গ্রাম মাত্র আধ ঘণ্টার দূরত্বে।
  • রেলপথে: সরাসরি পেডনে (Pernem) রেল স্টেশন রয়েছে। এছাড়া থিভিম (Thivim) স্টেশন থেকেও ট্যাক্সি বা গাড়ি ভাড়া করে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায় এই প্রাচীন মন্দিরে।

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker