পঞ্চায়েত প্রধানদের সইয়ে আর হবে না কোনও কাজ! বড় সিদ্ধান্তের ঘোষণা দিলীপের

বাংলা হান্ট ডেস্ক : পঞ্চায়েত প্রশাসনের ক্ষমতার কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। পঞ্চায়েত প্রধানদের আর্থিক ও প্রশাসনিক অনুমোদনের ক্ষমতা সীমিত করে সেই দায়িত্ব সরকারি আধিকারিকদের হাতে তুলে দিতে আইন আনতে চলেছে সরকার। বিধানসভায় এই ঘোষণা করেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
পঞ্চায়েত নিয়ে ঘোষণা দিলীপ ঘোষের(Dilip Ghosh) ?
বিধানসভায় পঞ্চায়েত দফতরের বাজেট নিয়ে আলোচনায় দিলীপ ঘোষ জানান, খুব শীঘ্রই এই সংক্রান্ত একটি সংশোধনী বিল আনা হবে। প্রস্তাবিত আইনে পঞ্চায়েত প্রধানদের কাছ থেকে ‘সিগনেটরি অথরিটি’ প্রত্যাহার করা হবে। অর্থাৎ, সরকারি ফাইল, উন্নয়ন প্রকল্প বা আর্থিক নথিতে চূড়ান্ত সই ও অনুমোদনের দায়িত্ব আর নির্বাচিত প্রধানদের হাতে থাকবে না। সেই দায়িত্ব পালন করবেন সরকারের নিযুক্ত প্রশাসনিক আধিকারিকরা। মন্ত্রীর বক্তব্য, আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যেই এই বিল বিধানসভায় পেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকার পরিবর্তনের পরও রাজ্যের অধিকাংশ গ্রাম পঞ্চায়েত এখনও তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন জেলা থেকে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ আসছে, বহু পঞ্চায়েত প্রধান ও উপপ্রধান নিয়মিত দফতরে উপস্থিত থাকছেন না। ফলে সরকারি প্রকল্পের ফাইল নিষ্পত্তি হচ্ছে না, থমকে যাচ্ছে উন্নয়নমূলক কাজ এবং ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
এদিন বিধানসভায় এই প্রসঙ্গে সরব হন ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন, সমীর জানা ও বীণা মণ্ডল। তাঁদের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে দিলীপ বলেন, “আমি বলেছি, পঞ্চায়েত প্রধান হলে মানুষকে পরিষেবা দিতে হবে। তাই বলেছি— এসে কাজ করুন, না হলে পদত্যাগ করুন। যদি অফিসে না আসেন, তা হলে পুলিশ দিয়ে কোমরে দড়ি দিয়ে এনে সই করাব। কী ভাবে জিতেছেন, কোন পার্টি করছেন, কোন দলে যাচ্ছেন জানি না। কোনও কিছুর জন্য মানুষকে বঞ্চিত করা যাবে না।”

আরও পড়ুন : রাত পোহালেই দুর্যোগ দক্ষিণবঙ্গে! দফায় দফায় ঝড়-বৃষ্টি ৭ জেলায়: আবহাওয়ার আগাম আপডেট
বিরোধীদের পাল্টা আক্রমণ করে তিনি অতীতের পঞ্চায়েত পরিচালনার প্রসঙ্গও টেনে পঞ্চায়েত মন্ত্রী বলেন, “যাঁরা আজ নীতির কথা বলছেন, তাঁরা ১৫ বছরে যা করছেন… এ সব কথা মানায় না।” নতুন বিল কার্যকর হলে পঞ্চায়েত পরিচালনার ধরনেই বড় পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পরিবর্তে সরকারি আধিকারিকদের হাতে অনুমোদনের ক্ষমতা চলে গেলে উন্নয়নমূলক কাজের গতি বাড়বে বলে সরকারের আশা। তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।




