0%

চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা! চন্দ্রজয়ের লক্ষ্যে তৈরি হচ্ছে চিন

বাংলাহান্ট ডেস্ক: চিনের (China) মহাকাশ স্বপ্ন যেন দিন দিন আরও উচ্চাভিলাষী হয়ে উঠছে। একসময় হলিউডের জনপ্রিয় ‘স্টার ওয়ার্স’ সিনেমায় যে ধরনের প্রযুক্তি ও মহাকাশযানের কল্পনা করা হয়েছিল, বাস্তব জগতে তারই কিছুটা প্রতিফলন ঘটাতে চাইছে বেজিং। চাঁদে মানুষ পাঠানো থেকে শুরু করে মহাকাশে স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণ, এমনকি ড্রোনবাহী বিশাল মহাকাশযান তৈরির পরিকল্পনাও এখন চিনের দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচির অংশ। বিশ্বের মহাকাশ শক্তিগুলির মধ্যে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করতে একাধিক প্রকল্পে বিপুল বিনিয়োগ করছে শি জিনপিং প্রশাসন। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী এক দশকে মহাকাশ গবেষণা ও সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে চিনের এই অগ্রগতি আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা চিনের (China):

চিনের বর্তমান সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হল ২০৩০ সালের মধ্যেই চাঁদের মাটিতে মানুষ নামানো। সেই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই গত ২৪ মে এক নভোচারীকে ‘তিয়াংগং’ মহাকাশ স্টেশনে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তিনি প্রায় এক বছর অবস্থান করবেন। মহাকাশে দীর্ঘ সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা অর্জন এবং চাঁদে অবতরণের জন্য প্রয়োজনীয় শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি গড়ে তোলাই এই অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য। পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে অবস্থিত তিয়াংগং স্টেশন বর্তমানে চিনের মহাকাশ গবেষণার প্রধান কেন্দ্র। এখানেই ভবিষ্যতের চন্দ্রাভিযানের জন্য নভোচারীদের প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হচ্ছে। যদিও লক্ষ্য পূরণে হাতে আর কয়েক বছর সময় রয়েছে, তবু বিজ্ঞানীদের মতে, এই সময়সীমার মধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

আরও পড়ুন: ১ জুন থেকে LPG-তে বড় বদল, নতুন নিয়মে বাড়তে পারে সাধারণের খরচ

চাঁদে মানুষ পাঠানোর ক্ষেত্রে চিন এখনও পর্যন্ত সরাসরি সাফল্য না পেলেও রোবটিক অভিযানে একাধিক নজির গড়েছে। ‘শেনঝৌ’ সিরিজের ধারাবাহিক সফল অভিযান দেশটির মহাকাশ প্রযুক্তির সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। ২০২৪ সালের জুন মাসে চিন বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে চাঁদের দূরবর্তী বা ‘ফার সাইড’ অঞ্চল থেকে রোবটের মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। এই সাফল্য আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিল। বিজ্ঞানীদের মতে, চাঁদের এমন অঞ্চলে সফলভাবে অভিযান পরিচালনা করা প্রযুক্তিগত দিক থেকে অত্যন্ত জটিল কাজ। যদি ২০৩০ সালের আগেই মানুষবাহী চন্দ্রযান সফলভাবে অবতরণ করানো যায়, তাহলে ২০৩৫ সালের মধ্যে রাশিয়ার সহযোগিতায় চাঁদে স্থায়ী গবেষণা ঘাঁটি গড়ে তোলার চিনা পরিকল্পনা আরও গতি পাবে।

তবে বেজিংয়ের স্বপ্ন কেবল চাঁদেই সীমাবদ্ধ নয়। মহাকাশে ড্রোন প্রযুক্তিকেও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাইছে তারা। এখনও পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কার্যক্ষম মহাকাশ ড্রোন মোতায়েন না করা গেলেও হাইপারসনিক ড্রোন প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করছে চিন। সরকারি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভবিষ্যতে কক্ষপথ থেকেই একসঙ্গে বহু ড্রোন পরিচালনার ক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য রয়েছে দেশটির। এর ফলে নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

China plans to establish a permanent base on the moon.

আরও পড়ুন: এক ফোনেই পুলিশ-অ্যাম্বুল্যান্স-দমকল, ১১২ পরিষেবা চালুতে তিন মাস সময় সুপ্রিম কোর্টের

এই পরিকল্পনার সবচেয়ে চমকপ্রদ অংশ হল ‘লুয়াননিয়াও’ নামে একটি বিশাল ত্রিভুজাকার মহাকাশযানের ধারণা। যার অর্থ ‘দিব্য পাখি’। প্রস্তাবিত এই মহাকাশযানের দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০০ ফুট এবং ওজন হতে পারে প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার টন। ধারণা করা হচ্ছে, এটি একসঙ্গে সর্বাধিক ৮৮টি স্বয়ংক্রিয় স্টেলথ ড্রোন বহন ও মোতায়েন করতে সক্ষম হবে। যদিও বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এত বড় মহাকাশযান নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, শক্তির উৎস এবং উপকরণ এখনও পুরোপুরি আবিষ্কৃত হয়নি। ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হতে অনেক সময় লাগতে পারে। তবুও চিন (China) এই স্বপ্ন থেকে সরে আসছে না। ভবিষ্যতে এমন প্রযুক্তি সফল হলে মহাকাশ থেকে নজরদারি, ড্রোন পরিচালনা এমনকি সামরিক অভিযানেও বিপ্লব ঘটতে পারে। অনেকের মতে, এটাই হতে পারে ভবিষ্যতের যুদ্ধ বা ‘ফিউচার ওয়ার’-এর নতুন রূপরেখা, যেখানে মহাকাশই হয়ে উঠবে পরবর্তী কৌশলগত যুদ্ধক্ষেত্র।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker