চার দিনেই উপচে পড়া ভিড়, জনকল্যাণ শিবির নিয়ে নয়া আপডেট

বাংলা হান্ট ডেস্ক : সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনের নতুন উদ্যোগ হিসেবে শুরু হয়েছে জনকল্যাণ শিবির(Janakalyan Shibir)। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় টানা চার দিন ধরে শিবির বসে। সরকারি সুযোগ-সুবিধা এক জায়গা থেকে পাওয়ার সুযোগ মিলতেই বিপুল সংখ্যক মানুষ সেখানে হাজির হন। পরিসংখ্যান বলছে, চার দিনের এই কর্মসূচিতে ৮২ হাজারেরও বেশি নাগরিক বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য আবেদন জমা দিয়েছেন।
জনকল্যাণ শিবির (Janakalyan Shibir) প্রসঙ্গে সরকার
সরকারি এই শিবিরে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখা গিয়েছে স্বাস্থ্য পরিষেবা সংক্রান্ত প্রকল্পে। আয়ুষ্মান ভারত যোজনার সুবিধা পেতে আবেদন করেছেন ৪০ হাজার ৩৩২ জন। এতদিন রাজ্যের বাসিন্দারা মূলত স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় পরিষেবা পেলেও তা রাজ্যের সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্পের সুবিধা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যবহার করা সম্ভব হওয়ায় বহু মানুষ এবার নাম নথিভুক্ত করতে এগিয়ে এসেছেন।
মহিলাদের আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য সাড়া মিলেছে। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে আবেদনকারীর সংখ্যা ১০ হাজার ৩১৪। এই প্রকল্পের মাধ্যমে উপভোক্তাদের প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। বার্ধক্য ভাতা প্রকল্পেও ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। এই ভাতার আওতায় নাম নথিভুক্ত করতে আবেদন করেছেন ১৮ হাজার ৮১৫ জন। নতুন সরকারের আমলে এই ভাতার পরিমাণ মাসিক ২ হাজার টাকা করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিধবা ভাতার সুবিধা পাওয়ার আশায় আবেদন করেছেন ২ হাজার ৫২ জন।
এদিকে রান্নার গ্যাস সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় প্রকল্প পিএম উজ্জ্বলা যোজনায় ২ হাজার ৪০০ জন আবেদন করেছেন। রেশন কার্ড পরিষেবার ক্ষেত্রেও জমা পড়েছে প্রায় এক হাজার আবেদন। আবাসন সংক্রান্ত সহায়তা পেতে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা ৫৬৮। পরিবেশবান্ধব শক্তির ব্যবহার বাড়াতে চালু হওয়া পিএম সূর্য ঘর প্রকল্পেও আগ্রহ দেখা গিয়েছে। সরকারি ভর্তুকির সাহায্যে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা বসানোর লক্ষ্যে প্রায় ৪০০টি আবেদন জমা পড়েছে।

আরও পড়ুন : কত বছর পর্যন্ত বিনা টিকিটে ভ্রমণ ট্রেনে? অনেকেই জানেন না সঠিক নিয়ম
পাশাপাশি মুদ্রা ঋণ, পিএম স্বনিধি, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি, পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ প্রকল্প, অনগ্রসর শ্রেণির ভাতা এবং পিএম সুরক্ষা বিমা যোজনার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রেও বহু মানুষ আবেদন করেছেন। শহরের বিভিন্ন শিবিরে জমা পড়া বিপুল সংখ্যক আবেদন স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে সরকারি সহায়তা ও কল্যাণমূলক প্রকল্পের প্রতি নাগরিকদের আগ্রহ যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন দেখার, আবেদনকারীদের মধ্যে কতজন দ্রুত প্রকৃত সুবিধা হাতে পান এবং প্রশাসন কতটা কার্যকরভাবে সেই পরিষেবা পৌঁছে দিতে পারে।




