টাকা-সোনাদানার বদলে ১২৫ এরও বেশি চাকরি! পুর দুর্নীতিতে অভিযুক্ত মদন, তল্লাশি শুরু ইডির

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পালাবদলের পর থেকেই অ্যাকশন মোডে রয়েছে সরকার। দুর্নীতি থেকে সন্ত্রাস পুরনো ফাইল খুলে চলছে একের পর এক গ্রেফতার পর্ব। আর এবার পালা মদন মিত্রর (Madan Mitra)! আজ অর্থাৎ শনিবার সকাল থেকেই কলকাতা শহরের মোট সাতটি জায়গায় একসাথে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে ইডি। পুরসভায় বেআইনিভাবে চাকরি দেওয়ার অভিযোগেই এই তল্লাশি চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় সংস্থা এমনটাই খবর মিলেছে।
পুরদুর্নীতিতে অভিযুক্ত মদন মিত্র!
বিগত সরকারের আমলে বেআইনিভাবে একাধিক পুরসভার চাকরি পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। যার জন্য মোটা টাকা ঘুষ নিয়েছেন মদন মিত্র, এমনটাই অভিযোগ! সেটাই খতিয়ে দেখার জন্য শনিবারের এই তল্লাশি অভিযান চলছে। সূত্রমতে, কখনো নগদ টাকা তো কখনো সোনা দানার মাধ্যমে চাকরির জন্য ঘুষ নিতেন তিনি। যদিও সরাসরি নিজে কখনো ঘুষ নেননি, বদলে মধ্যস্থতাকারীদের মধ্য দিয়ে টাকা পৌঁছে যেত তার কাছে এমনটাই অভিযোগ। ইডির মতে প্রায় 125টি বা তারও বেশি বেআইনি নিয়োগের সাথে যোগ রয়েছে কামারহাটি বর্তমান বিধায়কের।

কোথায় কোথায় তল্লাশি?
আগেই বলা হয়েছে সাতটি জায়গায় একসাথে তল্লাশি চলছে। এরমধ্যে প্রথমেই রয়েছে ভবানীপুরে মদন মিত্রের বাড়ি ও দফতর। এছাড়াও কামারহাটি দক্ষিণেশ্বর বেলেঘাটা জোকা ও বেহালাতেও তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি।
আরও পড়ুনঃ রবিবার বাড়ছে মেট্রোর সংখ্যা, কোন লাইনে কটায় চালু পরিষেবা? রইল টাইম টেবিল
২০১১ সালে প্রথম কামারহাটির বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন মদন মিত্র। এরপর ২০২১ ও ২০২৬ সালে একই কেন্দ্র থেকে ব্যাক টু ব্যাক জয় লাভ করেছেন। তাই দীর্ঘদিনের প্রভাব খাটিয়ে বেআইনি নিয়োগ হয়েছে কিনা সেটাই কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তের উদ্দেশ্য।
প্রসঙ্গত, স্কুলের নিয়োগ দুর্নীতির মামলার তদন্তভার রয়েছে সিবিআই এর কাছে। সেই মামলায় অয়ন শীলকে গ্রেফতার করে জেরা করার সময়ই পুরনিয়োগ দুর্নীতির বিষয়টি সামনে আসে। জানা যায় টাকার বিনিময়ে দিব্যি চাকরি হয়েছে পুরসভায়। অযোগ্যরা বেআইনি পথে চাকরি পেলেও বঞ্চিত হয়েছে যোগ্য প্রার্থী রা। অয়নের সল্টলেকের অফিস থেকে কৈমার শিট থেকে শুরু করে উত্তরপত্র অবধি উদ্ধার করে সিবিআই।
এদিকে গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহাকে হেনস্থা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মদন মিত্র। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে পুরসভার সমস্ত কাউন্সিলারদের পদত্যাগের নির্দেশ দেন ও বলেন আগামী পুর নির্বাচনে ফের তৃণমূলের পতাকা ওড়াবেন। এই মন্তব্যের ২৪ ঘন্টা পেরোনোর আগেই ইডি হাজির তারই বাড়ি ও অফিসে পুর দুর্নীতির অভিযোগে।




