তৃণমূলের ৪৪০ কোটির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বিতর্কে নতুন মোড়! কী জানাল কলকাতা হাই কোর্ট?

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙনের পর থেকেই দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং তহবিল নিয়ে বিরোধ চলছে। এই পরিস্থিতিতে দলের কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়ার বিরুদ্ধে দ্রুত শুনানির আবেদন করেছিল কালীঘাট শিবির। কিন্তু সেই আবেদন গ্রহণ করেনি কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। আদালত জানিয়ে দিয়েছে, নির্ধারিত সময় অনুযায়ীই মামলার শুনানি হবে।
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ নিয়ে হাই কোর্টে (Calcutta High Court) আবেদন
মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court) কালীঘাট শিবিরের আইনজীবী কিশোর দত্ত মামলাটি দ্রুত শুনানির জন্য আবেদন করেন। তিনি আদালতের কাছে বিষয়টিকে জরুরি বলে উল্লেখ করেন। তবে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য সেই আবেদন খারিজ করে দেন। বিচারপতি স্পষ্ট জানান, মামলার তালিকা অনুযায়ীই শুনানি হবে। নির্ধারিত সময়ের আগে মামলাটি নেওয়া সম্ভব নয়।
কেন তৈরি হয়েছে এই পরিস্থিতি?
তৃণমূলে ভাঙনের পর দলের তহবিল ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির নিজেদেরই ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করছে। সেই কারণেই দলের অর্থ কোন পক্ষ ব্যবহার করবে, তা নিয়ে বিতর্ক আরও বেড়েছে।
৪৪০ কোটি টাকার লেনদেন বন্ধ
দলের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে অ্যাকাউন্টগুলির লেনদেন বন্ধ রাখার আবেদন করেছিলেন। পরে ঋতব্রত শিবিরও এই বিষয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানায়। এরপর পুলিশ পদক্ষেপ করে। তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৪৪০ কোটি টাকার লেনদেন আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ওই অ্যাকাউন্টগুলির লেনদেন সংক্রান্ত নথিও চাওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে কালীঘাট শিবির।

আরও পড়ুনঃ মমতার সঙ্গ ছেড়ে বিদ্রোহী আরও ৩? ঋতব্রত শিবিরের ৪ বিধায়ক নিয়ে পাল্টা দাবি কালীঘাটের
বৃহস্পতিবার শুনানির আর্জি
মামলায় রাজ্য সরকারের পক্ষে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি আদালতকে (Calcutta High Court) জানান, সোমবারই তিনি মামলার নথি পেয়েছেন। তাই বিষয়টি নিয়ে প্রস্তুতির জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন। সেই কারণে তিনি বৃহস্পতিবার থেকে শুনানি শুরু করার আবেদন জানান। এখন আদালতের নির্ধারিত সূচি মেনেই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। ততদিন পর্যন্ত তৃণমূলের ওই তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা ৪৪০ কোটি টাকা নিয়ে অনিশ্চয়তা বজায় থাকছে।




