মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অ্যাকশন! পুলিশের জালে একের পর এক হুমায়ুন ঘনিষ্ঠ

বাংলা হান্ট ডেস্ক : নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপ ক্রমশ বাড়ছে। বিধানসভার অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া সতর্কবার্তার পরেই সক্রিয় হয়েছে পুলিশ। হুমায়ুনের জনসভার আয়োজন করা হয়েছিল, সেই অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত তিন আয়োজককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, তদন্তের পরবর্তী ধাপে এবার বিধায়কের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করা হতে পারে।
এবার গ্রেফতার হবেন হুমায়ুন কবীর(Humayun Kabir)?
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৬ জুন রেজিনগরের একটি জনসভায়। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপিকে আক্রমণ করে হুমায়ুন কবীর বলেন, “আমি যেদিন ময়দানে মুসলমানদের নিয়ে নেমে যাব সেদিন এমন স্যাটাভাঙা মার শুরু করব যে আপনাদের পতাকা বওয়ার লোক থাকবে না।” একই ভাষণে তিনি আরও বলেন, “আমার মাথা যেদিন গরম হয়ে যাবে, সেদিন আমি এসপিও বুঝব না, মুখ্যমন্ত্রীও বুঝব না।” এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং তদন্ত শুরু হয়।
পুলিশ সূত্রের খবর, সোমবার গভীর রাতে রেজিনগর থানার অধীনে অভিযান চালিয়ে লোকনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা আমিনুল শেখ এবং কাশিপুর এলাকার গোলাম মোস্তাফাকে আটক করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, যে সভায় হুমায়ুন কবীর বিতর্কিত ভাষণ দিয়েছিলেন, তার অনুমতি নিয়েছিলেন আমিনুল। পরে শক্তিপুর থানা এলাকা থেকে আনিসুর রহমান নামে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ, ওই কর্মসূচির আয়োজনের সঙ্গে তিনজনেরই প্রত্যক্ষ যোগাযোগ ছিল।
প্রসঙ্গত, বিতর্ক আরও তীব্র হয় সোমবার বিধানসভার অধিবেশনে। সেখানে হুমায়ুন কবীরকে উদ্দেশ্য করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আপনাকে যারা ওই সভায় ডেকেছিল, আগে তাদের তুলব, তারপর আপনার কাছে যাব। ধরে নিন এটা আপনার শেষ বক্তব্য।” তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সেই সতর্কবার্তার পরই সভার উদ্যোক্তাদের গ্রেফতার করায় প্রশাসনের অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

আরও পড়ুন : সরকারি কর্মীদের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করল নবান্ন
উল্লেখ্য, নিজের বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ার পর ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেন হুমায়ুন কবীর। তিনি দাবি করেন, “যারা এতদিন তৃণমূল ছিল, তারা আজ বিজেপির গুণ্ডা হয়েছে, আমি তাদের বিরুদ্ধে বলেছি।” যদিও বিরোধী শিবিরের একাংশের বক্তব্য, পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝেই তিনি এখন নিজের মন্তব্যের ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছেন।আয়োজকদের গ্রেফতারের পর পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে এবং তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এলে হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে কোনও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল ও প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকদের।




