তৃণমূলের ৪৪০ কোটি-মামলায় বিরাট মোড়! এবার ব্যাঙ্কের বয়ান তলব করল হাইকোর্ট

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ তৃণমূলে (Trinamool Congress) ভাঙনের পর দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে দড়ি টানাটানি শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই জল গড়িয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) অবধি। বুধবার সেই মামলাতেই বড় নির্দেশ দিলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।
তৃণমূলের ৪৪০ কোটি-মামলায় হাইকোর্ট কী বলল? | (Trinamool Congress)
এদিনের শুনানিতে তৃণমূলের আইনজীবী কিশোর দত্ত জানান, আগে তৃণমূলের ৩টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হলেও পরে আরও ৫টি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়। ফলে দলের ৮টি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজড।
আরও পড়ুনঃ মনরেগার বদলে চালু হয়েছে জি রাম জি প্রকল্প! পুরনো জব কার্ড আর চলবে কিনা জানুন
তৃণমূলের আইনজীবীর দাবি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার ক্ষমতা পুলিশের নেই। একটি রাজনৈতিক দলের জলের বিল, বিদ্যুতের বিল সহ রোজকার বিভিন্ন জরুরি খরচ থাকে। এই প্রেক্ষিতে কর্ণাটক হাইকোর্টের একটি রায় উল্লেখ করে কিশোর বলেন, জরুরি পরিষেবার খরচ বন্ধ করা যায় না। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সিজ করা যেতে পারে, তবে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ উচিত নয়।
একথা শুনে পাল্টা বিচারপতি প্রশ্ন করেন, যদি অপরাধের অভিযোগই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত হয়, তাহলে বাধা কোথায়? তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ রেখে শুধু দলের রোজকার জরুরি খরচের জন্য হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের মধ্যে থেকে যুগ্ম স্পেশ্যাল অফিসার নিয়োগ করার বিষয়টি বিবেচনা করে দেখা হচ্ছে। তবে সেই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলি থেকে কী কী তথ্য মিলেছে, সেটার রিপোর্ট তদন্তকারী সংস্থাকে আদালতে জমা করতে হবে।
এদিকে পুলিশের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, তদন্ত চলছে। অর্থ কীভাবে সাইফন করা হয়েছে সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখনই এই মামলায় কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ না দিয়ে দু’দিন পরে আদালতকে বিষয়টি বিবেচনা করার আবেদন জানান তিনি।
এদিনের শুনানি চলাকালীন বিচারপতি ভট্টাচার্য প্রশ্ন করেন, ২৮ জুন অভিযোগ দায়ের হওয়ার আগে অবধি ওই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি ঘিরে কোনও নির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ সামনে আসেনি। তাহলে কীসের ভিত্তিতে ওইদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর পরের দিন সকালেই অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হল?
বিচারপতি এদিন বলেন, “এই মুহূর্তে আদালতের বিষয়টি স্পষ্ট নয়। কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ, এখনই সেটার গভীরতা বিচার করা সম্ভব নয়। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলিতে ডেবিট ফ্রিজিং করা প্রয়োজন কিনা আদালত সেটা বিবেচনা করে দেখবে। তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ঘিরে যদি অভিযোগ থাকে তাহলে কিছু সময়ের জন্য তা বন্ধ থাকতে পারে। অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ না করা হলে তদন্ত কীভাবে এগোবে?”
বিচারপতি ভট্টাচার্য আরও জানান, অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে চায় হাইকোর্ট। তবে তার আগে জানতে চায় ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য। সেই কারণে শরৎ বোস রোডের একটি বেসরকারি ব্যাঙ্ককে হলফনামা জমা করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। সেই সঙ্গে তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত রিপোর্টও পেশ করতে বলা হয়েছে। আগামী ৮ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানি।
তৃণমূলে ভাঙনের পর দলের তহবিল ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে দুই শিবিরের মধ্যে টানাপড়েন শুরু হয়েছে। এই নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলাও হয়েছে। এদিন সেই মামলাতেই বড় নির্দেশ দিল আদালত।



