0%

দক্ষিণবঙ্গে এসেও কেন নিষ্ক্রিয় বর্ষা? আবহাওয়ার চরম খামখেয়ালিপনা বাংলায়

সবদিক নিউজ: দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা ঢুকলেও এখনও স্বস্তি মিলছে না সাধারণ মানুষের। মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করলেও বৃষ্টির দেখা কার্যত নেই বললেই চলে। কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে দু-এক পশলা হালকা বৃষ্টি হলেও বর্ষার চেনা দাপট এখনও উধাও। বরং বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরম ও ঘর্মাক্ত অস্বস্তি আরও বাড়ছে।

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গের কোথাও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। শুক্রবার দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করলেও তা এখনও সক্রিয় নয়। দুর্বল মৌসুমি বায়ুর কারণেই পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হচ্ছে না। ফলে আকাশ মেঘলা থাকলেও বৃষ্টি হচ্ছে সামান্য এবং তা দীর্ঘস্থায়ীও হচ্ছে না।

আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, সোমবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ১.৪ ডিগ্রি বেশি। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৮.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ১.৮ ডিগ্রি বেশি। মঙ্গলবারও কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকতে পারে।

আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় মঙ্গলবারও অস্বস্তিকর আবহাওয়া বজায় থাকবে। বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকায় ঘাম ও ভ্যাপসা গরম আরও অনুভূত হবে। তাপমাত্রার ‘রিয়েল ফিল’ও স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকতে পারে। 

দক্ষিণবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া এবং হুগলির কিছু এলাকায় বিকেলের দিকে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই বৃষ্টি খুব বেশি সময় স্থায়ী হবে না বলেই জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গে সম্পূর্ণ উল্টো ছবি। মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়ির কিছু এলাকায় ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে।

দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং জলপাইগুড়িতে গোটা সপ্তাহ জুড়ে বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ভারী বৃষ্টির জেরে পাহাড়ি এলাকায় ধস নামার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ডুয়ার্স অঞ্চলের একাধিক নদীর জলস্তর বাড়তে পারে। পাশাপাশি তরাই ও ডুয়ার্সের নিচু এলাকায় জলমগ্ন পরিস্থিতির আশঙ্কাও রয়েছে।

সব মিলিয়ে দক্ষিণবঙ্গ যেখানে বর্ষা ঢুকেও বৃষ্টির অপেক্ষায়, সেখানে উত্তরবঙ্গে বর্ষার দাপট ক্রমশ বাড়ছে। ফলে এক রাজ্যেই আবহাওয়ার দুই বিপরীত ছবি ধরা পড়ছে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker