দলত্যাগের অভিযোগ উঠতেই ইস্তফা, ফের ভোটে লড়াই! উপনির্বাচনের খরচ নিয়ে জবাব চাইল সুপ্রিম কোর্ট

SOBDIK NEWS: বিধানসভা নির্বাচনে জিতে বিধায়ক হওয়ার পর কেউ দল বদলে পদত্যাগ করলে সেই আসনে আবার উপনির্বাচন করতে হয়। কিন্তু শুধু দলবদলের কারণে ফের ভোট হলে তার খরচ কেন সাধারণ মানুষের টাকায় মেটানো হবে? এই প্রশ্ন তুলেই সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) মামলা হয়েছে। এবার এই মামলায় কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের জবাব চাইল শীর্ষ আদালত।
Supreme Court : দলবদল করে ইস্তফা, ফের ভোটে লড়াইয়ের অভিযোগ
সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে মামলাটি ওঠে। আইনজীবী কে সুধান মাদ্রাজ হাইকোর্টের ২৪ সেপ্টেম্বরের রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করেছেন। তাঁর হয়ে আদালতে সওয়াল করছেন আইনজীবী মার্লিন র্যাচেল জে। মামলাটি তামিলনাড়ুর ছয় প্রাক্তন এআইএডিএমকে বিধায়ককে নিয়ে। তাঁরা হলেন এস জয়কুমার, মরগথম কুমারভেল, পি সত্যভামা, ই সুব্বাইয়া, এমআর বিজয়ভাস্কর এবং সি বিজয়ভাস্কর।
মামলাকারীর দাবি, ২০২৬ সালের মে মাসে তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর আস্থা ভোটে দলের নির্দেশ না মেনে ভোট দেন এআইএডিএমকে-র কয়েক জন বিধায়ক। তাঁদের বিধায়ক পদ খারিজ করার জন্য স্পিকারের কাছে আবেদন জমা পড়ে। কিন্তু সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার আগেই ছয় বিধায়ক পদত্যাগ করেন। একই দিনে তাঁদের ইস্তফা গ্রহণ করা হয়। পরে তাঁরা শাসকদলে যোগ দেন। অভিযোগ, ধরপুরম ও মদুরান্তকম আসনে পদত্যাগ করা বিধায়কদেরই আবার শাসকদলের প্রার্থী করা হয়।
মামলাকারীর বক্তব্য, দলত্যাগের অভিযোগে পদ খারিজ হওয়ার আগেই ইস্তফা দিলে সেই প্রক্রিয়া এড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়। এরপর অন্য দলের হয়ে একই আসনে ফের ভোটে লড়া যায়। এতে দলত্যাগবিরোধী আইনের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হচ্ছে বলে দাবি তাঁর।
তাঁর প্রশ্ন, বিধায়কদের দলবদলের কারণে উপনির্বাচন হলে তার খরচ কেন সরকারি কোষাগার থেকে দেওয়া হবে? একই আসনে দু’বার ভোটের খরচ সাধারণ মানুষের উপর চাপছে। বিধানসভার আসন কোনও বিধায়কের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। মানুষ পাঁচ বছরের জন্য প্রতিনিধি নির্বাচন করেন। তার আগেই বিধায়ক পদ ছেড়ে দিলে এলাকার মানুষ তাঁদের প্রতিনিধি হারান।
মামলাকারী আরও জানিয়েছেন, ছয় বিধায়কের পদত্যাগের কারণে বাজেট অধিবেশনে ওই ছয় এলাকার মানুষের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ ব্যাহত হয়েছিল। ২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে কোনও দলই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮টি আসন কোনও দলের হাতে ছিল না। তাই জোটসঙ্গী ও অন্য দল থেকে আসা বিধায়কদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ
এই মামলায় কেন্দ্রীয় সরকার, জাতীয় নির্বাচন কমিশন, তামিলনাড়ুর মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক, বিধানসভার সচিব এবং ওই ছয় প্রাক্তন বিধায়ককে নোটিস পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)।




