দিল্লিতে ধুন্ধুমার! প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে ধরনা, আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা-অখিলেশ

AK Bangla Desk: সোমবারের পর মঙ্গলবারও রাজনৈতিক বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠল রাজধানী দিল্লি। ‘আরশোলা’দের সমর্থনে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে ধরনায় বসে কংগ্রেস। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং সমাজবাদী পার্টির সাংসদ অখিলেশ যাদব। তাঁদের পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকজন কংগ্রেস নেতা-কর্মীকেও আটক করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনের সামনে জড়ো হন দলের নেতা-কর্মীরা। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ৭, লোক কল্যাণ মার্গের উদ্দেশে মিছিল শুরু হয়। কংগ্রেসের এই কর্মসূচিতে যোগ দেন অখিলেশ যাদবও। বিরোধীদের মিছিল এগোতেই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক দিল্লি পুলিশ এবং র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স। বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি তুলে স্লোগান দিতে থাকেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। তিনি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কথা বলে বিক্ষোভ প্রত্যাহারের চেষ্টা করেন। কিন্তু সেই আলোচনার পরেও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে সারারাত ধরনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কংগ্রেস। এরপর আন্দোলনকারীদের সরাতে তৎপর হয় দিল্লি পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তিতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একসময় রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, অখিলেশ যাদব-সহ অন্য নেতাদের পুলিশের গাড়িতে তুলে আটক করা হয়। ঘটনা নিয়ে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বারবার দাবি বদলের অভিযোগ তুলেছেন জিতেন্দ্র সিং। তাঁর বক্তব্য, রাহুল গান্ধী প্রথমে আশ্বাস দিয়েছিলেন, সরকার নিট-সহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে সংসদে আলোচনায় রাজি হলে কংগ্রেস বিক্ষোভ তুলে নেবে। সরকার সেই দাবি মেনে নিলেও কংগ্রেস অবস্থান পরিবর্তন করেছে বলে অভিযোগ তাঁর।
জিতেন্দ্র সিং আরও দাবি করেন, পরে রাহুল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের নতুন দাবি তোলেন। দাবি পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রাহুল নাকি জানান, আন্দোলনের দাবি এখন বদলে গিয়েছে। ফলে নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ থেকে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি—বিরোধীদের বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানীর রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়ে গেল।



