0%

দোল মানেই কি দপদপ করা মাথার যন্ত্রণা? রঙের উৎসবে মাইগ্রেন আটকাতে মেনে চলুন এই সহজ টিপস

বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের তালিকায় দোল হল অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক উৎসব। চারিদিকে রঙের মেলা আর বন্ধুদের সঙ্গে হুল্লোড়। কিন্তু এই আনন্দোৎসবের মাঝেই অনেকের কাছে দোল হয়ে দাঁড়ায় এক বিভীষিকা। কারণ মাইগ্রেন। যাঁদের এই সমস্যা আছে, তাঁদের কাছে উৎসবের প্রতিটি অনুষঙ্গই যেন একেকটি ‘ট্রিগার’। সামান্য অসতর্কতায় রঙের আনন্দ মুহূর্তেই বদলে যেতে পারে অন্ধকার ঘরে অসহ্য যন্ত্রণার ছটফটানিতে।

কেন দোলের দিনেই বাড়ে মাইগ্রেন?

নিউরোসার্জনদের মতে, মাইগ্রেন স্রেফ একটা সাধারণ মাথাব্যথা নয়। এটি আসলে একটি স্নায়ুবিক অবস্থা। এই সমস্যা থাকলে মানুষের মস্তিষ্ক আলো, শব্দ বা কড়া গন্ধের প্রতি অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। আর দোলের দিন এই সবকটি উপাদানই থাকে চরমে।

কড়া গন্ধ ও আবির: বাজারে চলতি অনেক রংয়ের তীব্র রাসায়নিক গন্ধ মাইগ্রেন রোগীদের জন্য বড় শত্রু। আবিরের কৃত্রিম সুগন্ধি সরাসরি স্নায়ুর ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

ডিজে: কান ফাটানো বক্সের আওয়াজ বা অতিরিক্ত হইচই দীর্ঘক্ষণ সহ্য করলে স্নায়ুতন্ত্র ক্লান্ত হয়ে পড়ে। শুরুতে বিরক্তি লাগলেও পরে তা তীব্র যন্ত্রণায় রূপ নেয়।

রোদের তেজ : খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘক্ষণ রং খেললে সূর্যের কড়া রোদ আর রঙের প্রতিফলন চোখের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এর সঙ্গে শরীর ডিহাইড্রেটেড বা জলশূন্য হয়ে গেলে তো কথাই নেই, মাইগ্রেন ট্রিগার অবধারিত।

লেট-ডাউন মাইগ্রেন: অদ্ভুত বিষয় হল, অনেকের ব্যথা দোলের দিন শুরু হয় না। পরদিন যখন উৎসবের উত্তেজনা থিতিয়ে শরীর স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে চায়, তখনই হানা দেয় ‘লেট-ডাউন মাইগ্রেন’।

আনন্দ বজায় রেখেও যেভাবে সুরক্ষিত থাকবেন

মাইগ্রেন আছে বলে নিজেকে চার দেওয়ালের মাঝে বন্দি করে রাখার কোনও মানে হয় না। চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে কিছু ছোট ছোট সতর্কতা অবলম্বন করলেই আপনিও যোগ দিতে পারেন রঙের উৎসবে।
চোখ ও মাথার সুরক্ষা: রোদে বেরোলে অবশ্যই ভালো মানের সানগ্লাস এবং মাথায় টুপি ব্যবহার করুন। এটি সরাসরি আলোর প্রতিফলন থেকে মস্তিষ্ককে বাঁচাবে।
ভেষজ রঙের ব্যবহার: রাসায়নিক বা কড়া সুগন্ধিযুক্ত রঙের বদলে ভেষজ বা প্রাকৃতিক আবির বেছে নিন। এতে গন্ধের ট্রিগার এড়ানো সম্ভব হবে।
পর্যাপ্ত জলপান: উৎসবের উত্তেজনায় জল খেতে ভুলবেন না। নির্দিষ্ট সময় অন্তর জল বা ফলের রস খান। শরীরে জলের ঘাটতি হলে কিন্তু মাইগ্রেন মাথাচাড়া দেবেই।
শব্দ থেকে দূরত্ব: যেখানে খুব জোরে বক্স বাজছে, সেখান থেকে একটু দূরে থাকার চেষ্টা করুন। স্নায়ুকে অতিরিক্ত উত্তেজিত হতে দেবেন না।
পর্যাপ্ত ঘুম: দোলের আগের রাতে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করুন। ক্লান্ত শরীর নিয়ে রং খেলতে নামলে সমস্যা বাড়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker