0%

‘নাম-পরিচয় জেনে নৃশংসভাবে পিটিয়ে খুন!’ বারুইপুরের ইন্দ্রজিৎ হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

সবদিক নিউজ: বারুইপুরের ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের মৃত্যু নিছক গণপিটুনির ঘটনা নয়, বরং তাঁকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে—নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, নাম ও পরিচয় দেখেই ৩৫ বছরের ওই যুবককে নিশানা করা হয়েছিল। ঘটনার পিছনে নির্বাচনে পরাজিত রাজনৈতিক শক্তি, অতিবাম সংগঠন এবং উগ্র মৌলবাদীদের উসকানি থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। শনিবার ইন্দ্রজিতের বাড়িতে গিয়ে তাঁর বাবা-মা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে তিনি বলেন, “ইন্দ্রজিৎকে নাম ও পরিচয় দেখে খুন করা হয়েছে। ভোটে যারা হেরেছে, তাদের উসকানি থাকতে পারে। র‌্যাডিক্যাল ও মৌলবাদীরাও জড়িত থাকতে পারে। অতিবামদের ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।”

শুভেন্দুর দাবি, ইন্দ্রজিতের হাত-পা বেঁধে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। ঘটনার ভিডিয়ো ও ছবি দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে দিঘা ও বকখালি-সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, ইন্দ্রজিতের হত্যাকারীদের প্রতি কোনও নরম মনোভাব দেখানো হবে না। তিনি বলেন, “একজন ৩৫ বছরের অবিবাহিত যুবককে যেভাবে হাত-পা বেঁধে পিটিয়ে মারা হয়েছে, তা ভয়াবহ। ইন্দ্রজিতের খুনিদের সঙ্গে কোনও পেয়ার-মহব্বত নয়। প্রত্যেককে কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হবে।” পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে আর্থিক সহায়তা ও চাকরির ব্যবস্থাও করেছে রাজ্য সরকার। নিহতের বাবা-মায়ের হাতে ২৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়েছে। ইন্দ্রজিতের দাদা বাপি মণ্ডলকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি দেওয়া হয়েছে। তাঁকে সূর্যপুর পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

হিংসার সময় ভাঙচুরে ইন্দ্রজিতের বাড়ির যে ক্ষতি হয়েছিল, সেটিও সরকারের উদ্যোগে সংস্কার করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর বাবার বার্ধক্যভাতা এবং মায়ের জন্য ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুভেন্দু বলেন, “ইন্দ্রজিৎকে আমরা ফিরিয়ে দিতে পারব না। কিন্তু তাঁর পরিবারকে একা ছেড়ে দেওয়া হবে না। আর যারা তাঁকে খুন করেছে, তাদের চরম শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।” অন্যদিকে, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ফুলতলায় অশান্তিতে নিহত প্রসেনজিৎ বিশ্বাসের পরিবারের জন্যও ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। উল্লেখ্য, গত ৪ জুলাই থেকে নিখোঁজ ছিল বারুইপুরের এক নাবালিকা। পরদিন একটি পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ, গণধর্ষণের পর তাকে খুন করা হয়েছিল। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়েছে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker