0%

যেকোনও সময় হতে পারেন খুন! আশঙ্কায় রয়েছেন ট্রাম্প, জানালেন, ‘আপনারা আমাকে মিস করবেন’

বাংলাহান্ট ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে (Donald Trump) ঘিরে ফের আন্তর্জাতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, বহুদিন ধরেই তিনি ইরানের সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু বা ‘হিট লিস্ট’-এ রয়েছেন। ট্রাম্পের বক্তব্য, যদি কখনও তাঁর ওপর প্রাণঘাতী হামলা সফল হয়, তাহলে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে সে বিষয়ে তিনি আগেই মার্কিন প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়ে রেখেছেন। তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। যদিও ট্রাম্পের এই দাবি সম্পর্কে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ধরনের মন্তব্য দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

যেকোনও সময় হতে পারেন খুন! আশঙ্কায় রয়েছেন ট্রাম্প (Donald Trump)

১০ জুলাই প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প (Donald Trump) বলেন, যদি ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান তাঁর বিরুদ্ধে কোনও হামলায় সফল হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র যেন কঠোর সামরিক জবাব দেয়। তাঁর কথায়, তিনি আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এমন নির্দেশ দিয়ে রেখেছেন যাতে প্রয়োজনে ইরানের বিরুদ্ধে অভূতপূর্ব সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। একই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের টার্গেটে রয়েছেন এবং এই পরিস্থিতি তাঁর কাছে নতুন নয়। ইজরায়েল নাকি তাঁকে নতুন করে কোনও সতর্কবার্তা দিয়েছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প জানান, ইজরায়েলের কাছ থেকে আলাদা কোনও সতর্কবার্তা তিনি পাননি। তাঁর মতে, বহু বছর ধরেই তিনি সম্ভাব্য হুমকির মধ্যে রয়েছেন এবং সেই বাস্তবতা তিনি মেনে নিয়েছেন।

আরও পড়ুন: ফের চালু হবে মৈত্রী এক্সপ্রেস? ঢাকা থেকে রেল মন্ত্রকের কাছে এল আবেদন

এই উত্তেজনার পেছনে রয়েছে ২০২০ সালের একটি বহুল আলোচিত ঘটনা। সেই সময় মার্কিন বাহিনীর অভিযানে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাশেম সোলেমানি নিহত হন। সেই অভিযানের অনুমোদন দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর থেকেই ইরানের একাধিক নেতা ও সরকারি মহলের বক্তব্যে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান দেখা যায়। বিভিন্ন সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকিও প্রকাশ্যে এসেছে। সাম্প্রতিক অতীতেও ইরানে আয়োজিত কিছু বিক্ষোভে ট্রাম্প-বিরোধী স্লোগান এবং তাঁর প্রতীকী মূর্তি পোড়ানোর ঘটনাও সামনে এসেছে। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে বাস্তব কোনও হামলার পরিকল্পনার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিরাপত্তা নিয়ে ট্রাম্পের উদ্বেগ নতুন নয়। অতীতেও তিনি প্রকাশ্যে জানিয়েছেন যে তাঁর ওপর হামলার আশঙ্কা রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সফরের সময় তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও একাধিকবার জোরদার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণেই একাধিক ক্ষেত্রে তাঁর ভ্রমণসূচি এবং যাতায়াতের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। সাম্প্রতিক ন্যাটো সম্মেলনেও ট্রাম্প ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন, বিশ্ব রাজনীতিতে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যায় না। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: মহিলাদের ফ্রি বাস স্কিমে নতুন নিয়ম! ১ আগস্ট থেকে দেখাতে হবে পিঙ্ক সহেলি স্মার্ট কার্ড, কোথায় পাওয়া যাবে জানুন

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক বহু বছর ধরেই অত্যন্ত সংবেদনশীল। পরমাণু কর্মসূচি, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক সংঘাত, এই সব বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে বারবার উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের (Donald Trump) সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই উত্তেজনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা ইরানের পক্ষ থেকে নতুন কোনও সামরিক পদক্ষেপের ঘোষণা করা হয়নি, তবু আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের সংবেদনশীল ইস্যুতে উভয় দেশের সংযত অবস্থানই ভবিষ্যতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker