0%

নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের ২০২৮-২৯ মেয়াদের প্রার্থিতায় শান্তিরক্ষা অগ্রাধিকার: পি হরিশ

রাষ্ট্রসংঘ, ১৮ সেপ্টেম্বর : ২০২৮-২৯ মেয়াদে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদের জন্য ভারতের প্রার্থিতায় শান্তিরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পি হরিশ। তিনি বলেন, শান্তিরক্ষার মূল ব্যবস্থাকে প্রয়োজনীয় সম্পদ দেওয়া এবং শান্তিরক্ষা অভিযানগুলির সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়ে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

শুক্রবার স্থানীয় সময় রাষ্ট্রসংঘের শান্তিরক্ষা সংক্রান্ত উন্মুক্ত বিতর্কে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হরিশ বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের মূল উদ্দেশ্য পূরণে শান্তিরক্ষা অপরিহার্য। তাই ২০২৮-২৯ মেয়াদের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যপদের জন্য ভারতের প্রার্থিতায় বিষয়টি অগ্রাধিকার পেয়েছে।

তিনি বলেন, ভারত এমন একটি শান্তিরক্ষা কাঠামোর পক্ষে, যা আরও বেশি সম্পদসমৃদ্ধ, সুরক্ষিত এবং যে বিশ্বের সেবা করে তার প্রতিনিধিত্বের দিক থেকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ হবে।

গত জুনে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর রাষ্ট্রসংঘে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করে আগামী বছর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদের জন্য ভারতের প্রার্থিতা ঘোষণা করেন। ভারতের নির্বাচনী ইশতেহারের নাম দেওয়া হয়েছে ‘শান্তি’—‘‘আদর্শ, আস্থা (এবং) সততার মাধ্যমে সামগ্রিক অগ্রগতি নিশ্চিতকরণ’- এর সংক্ষিপ্ত রূপ।

হরিশ বলেন, শান্তিরক্ষায় ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় সেনা-অবদানকারী দেশ। ৫০টিরও বেশি শান্তিরক্ষা মিশনে ভারত প্রায় ৩ লক্ষ সেনা মোতায়েন করেছে। তিনি জানান, রাষ্ট্রসংঘের নীল হেলমেটধারী শান্তিরক্ষী হিসেবে ১৮৪ জন ভারতীয় প্রাণ দিয়েছেন। তাঁদের আত্মত্যাগই শান্তিরক্ষা বিষয়ে ভারতের অবস্থানকে বাস্তব অভিজ্ঞতায় গড়ে তুলেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শান্তিরক্ষা অভিযানকে আরও কার্যকর করতে একাধিক প্রস্তাবও দেন হরিশ। তিনি বলেন, যে দেশগুলি সেনা ও পুলিশ সদস্য পাঠায়, মিশনের দায়িত্ব নির্ধারণ বা পর্যালোচনার আগে তাদের সঙ্গে কাঠামোবদ্ধভাবে আলোচনা করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, শান্তিরক্ষা মিশনের দায়িত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশের অগ্রাধিকারগুলির সামঞ্জস্য থাকা জরুরি। তা না হলে দীর্ঘমেয়াদে এই মিশনগুলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

হরিশের মতে, প্রতিটি শান্তিরক্ষা মিশনের দায়িত্বের সঙ্গে একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থাকা দরকার এবং নিরাপত্তা পরিষদকে সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে। একই সঙ্গে সম্পদের অপচয় রোধ এবং সেগুলির সর্বোত্তম ব্যবহারের জন্য শান্তিরক্ষা মিশনের দায়িত্বগুলিও যৌক্তিকভাবে পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন।

রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও শান্তিরক্ষা মিশন নিয়ে একই ধরনের কিছু মতামত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শান্তিরক্ষীদের মোতায়েনের আগে মিশনের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন। যে দেশগুলিতে শান্তিরক্ষা অভিযান চলছে, তাদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ পরামর্শের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।

গুতেরেস বলেন, শান্তি অভ্যন্তরীণভাবেই গড়ে তুলতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট দেশের জাতীয় পক্ষগুলিই সেই প্রক্রিয়ার মূল ভূমিকা পালন করবে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker