0%

‘পরীক্ষাটাই তুলে দেওয়া হোক’, নিট বাতিলে ফুঁসছেন বিজয়, মনে করালেন তামিলনাড়ুর ইতিহাস

প্রশ্ন ফাঁস হয়ে বাতিল হয়েছে নিট। দেশজুড়ে ডাক্তারির প্রবেশিকায় বসা ২৩ লক্ষ পড়ুয়ার জীবন নিয়ে কেন ছিনিমিনি খেলছে কেন্দ্র, এই প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছেন বিরোধী নেতারা। এহেন পরিস্থিতিতে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থলপতি বিজয়ের দাবি, নিট পরীক্ষাটাই পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া উচিত। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই নিট বন্ধের দাবিতে সুর চড়িয়ে আসছে তামিলনাড়ু। মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেই সেই দাবি আরও জোরদার করলেন থলপতি।

গত ৩ মে নিট ইউজির পরীক্ষা নিয়েছিল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। প্রায় ২৩ লক্ষ পড়ুয়া এই পরীক্ষায় বসেন। পরীক্ষার কয়েকদিন পরেই সন্দেহ দানা বাঁধে, রাজস্থানে ফাঁস হয়েছে প্রশ্নপত্র। জানা যায়, পরীক্ষার অন্তত একমাস আগে কিছু ছাত্রছাত্রীর হাতে এসেছিল একটি সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র। ওই সম্ভাব্য প্রশ্নপত্রে ৪১০টি প্রশ্ন ছিল। পরীক্ষার পর দেখা যায় ১২০টি রসায়ন প্রশ্ন আসল প্রশ্নের সঙ্গে হুবহু মিলে গিয়েছে। শুধু প্রশ্ন নয়, মিলে গিয়েছে উত্তরের অপশনও। গোটা ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরেই বাতিল করে দেওয়া হয় পরীক্ষা। ফের কবে পরীক্ষায় বসতে হবে, উৎকণ্ঠা নিয়ে দিন গুণছেন পড়ুয়ারা।

২০২৪ সালেও নিটের প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। মাত্র দু’বছরের মধ্যে ফের একই ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে প্রশ্ন উঠেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির ভূমিকা নিয়ে। জানা গিয়েছে, লক্ষ লক্ষ টাকায় নিটের প্রশ্ন কিনে তা বিপুল অর্থের বিনিময়ে তুলে দেওয়া হয়েছিল পরীক্ষার্থীদের হাতে। গোটা বিষয়টি নিয়ে বিবৃতি জারি করেছেন বিজয়। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ২০২৪ সালে প্রশ্ন ফাঁসের পর সিবিআই তদন্ত হয়েছিল। উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তারা ৯৫টি সুপারিশও করেছিল। তা সত্ত্বেও দু’বছরের মধ্যেই ফের প্রশ্ন ফাঁস এবং পরীক্ষা বাতিলের অর্থ এই পদ্ধতিতে বিরাট গলদ রয়েছে।

ইতিহাস মনে করিয়ে দিয়ে বিজয় বলেছেন, “তামিলনাড়ু সবসময় নিটের বিরোধিতা করেছে দলমত নির্বিশেষে। কারণ এই পরীক্ষায় সরকারি স্কুলের পড়ুয়ারা, গ্রামের পরীক্ষার্থীরা, তামিল ভাষায় পড়াশোনা করা পড়ুয়ারা সমস্যায় পড়ে। তাই দ্বাদশ শ্রেণির প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতেই মেডিক্যালে ভর্তি করানোর অনুমতি দেওয়া হোক তামিলনাড়ুকে।” উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগে পর্যন্ত দ্বাদশ শ্রেণির নম্বরের ভিত্তিতেই মেডিক্যালে ভর্তির ব্যবস্থা ছিল তামিলনাড়ুতে। তারপর সেরাজ্যে নিট বাধ্যতামূলক করে কেন্দ্র। তার প্রতিবাদে তামিলনাড়ু বিল পাশ করে সর্বসম্মতিক্রমে। কিন্তু তাতে সম্মতি দেননি রাষ্ট্রপতি।

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker