পালানোর চেষ্টা করলেই কুমিরের মুখোমুখি! প্যালেস্টাইনি বন্দিদের ‘বাগে আনতে’ বড় পরিকল্পনা ইজরায়েলের

বাংলা ওহান্ট ডেস্ক: ইজরায়েলের (Israel) কারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্যালেস্টাইনি বন্দিদের পালানোর সম্ভাবনা রুখতে দেশটির সরকার এক অভিনব এবং একই সঙ্গে বিতর্কিত পরিকল্পনার পথে হাঁটছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এমন কিছু কারাগার তৈরি করা হবে, যেগুলির চারপাশে থাকবে গভীর পরিখা। আর সেই পরিখাতেই রাখা হবে নীলনদের কুমির বা নাইল ক্রোকোডাইল। ইজরায়েল সরকারের দাবি, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতাও নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে সাহায্য করবে। তবে এই পরিকল্পনা সামনে আসতেই মানবাধিকার, পরিবেশ এবং নৈতিকতার প্রশ্নে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
প্যালেস্টাইনি বন্দিদের ‘বাগে আনতে’ বড় পরিকল্পনা ইজরায়েলের (Israel)
এই পরিকল্পনার কথা প্রথম প্রকাশ্যে আনেন ইজরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গাভির। পরে পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ক মন্ত্রী ইদিত সিলমান জানান, বিষয়টি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার ইতিমধ্যেই আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এতদিন নীলনদের কুমির দেশটির সংরক্ষিত বন্যপ্রাণীর তালিকায় থাকায় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির পক্ষে সেগুলি ব্যবহার করা সম্ভব ছিল না। সেই কারণেই আইন সংশোধন করে কুমিরকে নতুন একটি আইনি শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে কারা কর্তৃপক্ষ বা নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এই প্রাণী রাখার অনুমতি পাবে।
আরও পড়ুন: ভারতে আচমকাই কমছে স্মার্টফোনের বিক্রি! নেপথ্যে রয়েছে বড় কারণ
সরকারের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলির মধ্যে প্রবল উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, বন্দিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে এমন ব্যবস্থা মানবাধিকারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ইতামার বেন-গাভির ও ইদিত সিলমান— দু’জনকেই ইজ়রায়েলের কট্টর দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে দেখা হয়। অতীতেও প্যালেস্টাইনি আন্দোলনকারীদের সম্পর্কে তাঁদের একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। ফলে নতুন এই পরিকল্পনাকেও অনেকেই কঠোর নিরাপত্তা নীতির আরও একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
নাইল ক্রোকোডাইল পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ও ভয়ংকর কুমির প্রজাতি। বিশ্বের মোট ২৬টি কুমির প্রজাতির মধ্যে মানুষের উপর আক্রমণের জন্য সবচেয়ে কুখ্যাত দুটি হল দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নোনাজলের কুমির এবং আফ্রিকার নীলনদের কুমির। আফ্রিকার বিভিন্ন নদী ও জলাভূমিতে বসবাসকারী এই প্রজাতি আকারে বিশাল এবং অত্যন্ত আক্রমণাত্মক স্বভাবের বলে পরিচিত। নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে এমন প্রাণী ব্যবহার করার পরিকল্পনা তাই স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এটি বাস্তবায়ন হলে নিরাপত্তা যেমন বাড়তে পারে, তেমনি প্রাণী কল্যাণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়েও নতুন প্রশ্ন উঠবে।

আরও পড়ুন: বাইক ট্যাক্সি ও অটো চালকদের জন্য সুখবর! এই রাজ্যে EV-র ক্ষেত্রে মিলবে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি
উল্লেখযোগ্যভাবে, সীমান্ত নিরাপত্তায় প্রাণী ব্যবহারের ভাবনা শুধু ইজরায়েলেই (Israel) নয়, অন্য দেশেও আলোচনা হয়েছে। সম্প্রতি ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BSF) জানিয়েছিল, বাংলাদেশ সীমান্তের যেসব নদীবেষ্টিত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব নয়, সেখানে অনুপ্রবেশ ও অপরাধ দমনে সাপ বা কুমির ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে সমীক্ষা চালানো হচ্ছে। যদিও সেটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। অন্যদিকে ইজরায়েলের পরিকল্পনা বাস্তব রূপ পেলে তা বিশ্বে কারা নিরাপত্তার ইতিহাসে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। তবে নিরাপত্তা, মানবাধিকার এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখা হবে, সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে।




