পে কমিশন না DA, কোনটা আগে? রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য শীঘ্রই আসতে পারে বড়সড় ‘সুখবর’

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বাংলায় সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই নিজেদের দাবি-দাওয়া নিয়ে সুর চড়াতে শুরু করেছেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা। আপাতত তাদের নজর ১ জুনের দিকে। পয়লা তারিখের অপেক্ষায় বাংলার সমস্ত সরকারি কর্মচারী (Government Employees) ও পেনশনভোগীরা। ডিএ (Dearness Allowance) সংক্রান্ত যাবতীয় সমস্যা কাটাতে আগামী ১ জুন সোমবার নবান্নে সরকারি কর্মচারী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
সরকারি কর্মীদের বৈঠক ঘিরে তুঙ্গে চর্চা | Government Employees
এর আগে, ৩০ মে শনিবার বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে সেই বৈঠক পিছিয়ে গিয়েছে। ৩০ মে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ডিএ নিয়ে আন্দোলনে নামা সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলির বৈঠকটি ১ জুন হবে। জানা যাচ্ছে পয়লা জুন নবান্নের ১৪ তলায় কনফারেন্স রুমে বিকেল ৫টায় বৈঠকটি হবে।
বৈঠকের দিন বদল নিয়ে ইতিমধ্যেই সংগঠনগুলিকে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে। চিঠির বিষয়ে সম্প্রতি সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, “মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে DA মামলাকারী সংগঠনগুলির পূর্ব নির্ধারিত আলোচনার দিন পরিবর্তিত হয়ে আগামী ১লা জুন বিকাল পাঁচটায় স্থির হয়েছে।”
ভাস্করবাবু আরও লিখেছেন, “আমরা আশাবাদী মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক শিক্ষিকা এবং অশিক্ষক কর্মচারী সকলের বকেয়া DA সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করবেন। SJM এর পক্ষ থেকে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ।” পয়লা জুন হতে চলা এই বৈঠকে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। আলোচনা হতে পারে পূর্ববর্তী সরকারের আমলের একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েও।
সাম্প্রতিক অতীতে কোনো মুখ্যমন্ত্রীর এভাবে সরাসরি সমস্ত কর্মচারী সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসার নজির কার্যত নেই। সূত্রের খবর, চার সংগঠনের নেতাদের নিয়ে বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী। তালিকায় সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ, কনফেডারেশন অফ গভর্মেন্ট এমপ্লয়িজ, ইউনিটি ফোরাম এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারী পরিষদ।
এই মুহূর্তে রাজ্যের সমস্ত কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা তাকিয়ে রয়েছেন এই বৈঠকের দিকে। সমস্ত স্তরের কর্মচারীদের ডিএ সংক্রান্ত যাবতীয় দাবি-দাওয়া কী মিটবে? জট খুলবে বকেয়া ডিএ নিয়ে? কেন্দ্রীয় হারে ডিএ কী মিলবে? আবার ইতিমধ্যেই সপ্তম পে কমিশনের ঘোষণা করেছে রাজ্য। তা কবে থেকে লাগু হবে? আপাতত এই সমস্ত প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে কর্মচারীমহলে।
যদিও বকেয়া ডিএ-র বোঝা বিরাট। প্রথমত, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যবর্তী সময়ের বকেয়া ডিএ রয়েছে। যা মেটানোর জন্য তৎকালীন মমতা সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই বকেয়ার সামান্য অংশ মিটিয়েছিল পূর্ববর্তী সরকার। বাকি গোটাটার দায়ভার এসে পড়েছে বর্তমান বিজেপি সরকারের ওপর।

আরও পড়ুন: আচমকাই ভালুকের হামলায় ক্ষতবিক্ষত! কানাডায় মৃত্যু ভারতীয় মিক্সড মার্শাল আর্টের উঠতি খেলোয়াড়ের
আবার ২০২০ সালে ষষ্ঠ বেতন কমিশন কার্যকরের পর থেকে বকেয়া থাকা ডিএ নিয়েও সরব সরকারি কর্মচারীরা। বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা ৬০% হারে ডিএ পাচ্ছেন, আর রাজ্য সরকারি কর্মীরা মাত্র ১৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন। ফারাক বেড়ে হয়েছে ৪২ শতাংশ। এই ব্যবধান ঘোচাতেও চাই হাজার হাজার কোটি টাকা। এই পরিস্থিতিতে দাড়িয়ে রাজ্য সরকার সরকারি কর্মীদের জন্য কী সিদ্ধান্ত নেয় সেটাই দেখার।




