তিলজলার বন্ধ ফ্ল্যাট থেকে জরুরি নথি উদ্ধার, বাসিন্দাদের স্বস্তি দিয়ে নির্দেশ হাইকোর্টের

বাংলা হান্ট ডেস্ক : তিলজলার বহুতল অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকেই আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা আর আইনি জটিলতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন বহু পরিবার। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত আবাসনের একাংশ ইতিমধ্যেই গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। অন্যদিকে তদন্তের কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল কয়েকটি ফ্ল্যাটের দরজা। ফলে নিজেদের প্রয়োজনীয় নথি, টাকা-পয়সা কিংবা জরুরি জিনিসপত্রও উদ্ধার করতে পারছিলেন না বাসিন্দারা। অবশেষে সেই সমস্যার আংশিক সমাধানের পথ খুলে দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)।
তিলজলা কান্ডে কী নির্দেশ হাইকোর্টের (Calcutta High Court)?
সম্প্রতি, নিজেদের প্রয়োজনীয় নথি টাকা-পয়সা ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে নিয়ে আসার জন্য গ্রীষ্মের অবকাশকালীন বেঞ্চে আবেদন জানান আবাসনের চারটি পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের বক্তব্য, তদন্তের জন্য ফ্ল্যাট সিল করে রাখায় ভিতরে থাকা বহু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সামগ্রী আটকে রয়েছে। সেইসব জিনিস উদ্ধার করার অনুমতি চেয়েই আদালতের দ্বারস্থ হন তাঁরা।
মামলার শুনানির পর বিচারপতি শম্পা দত্ত পালের বেঞ্চ জানায়, আগামী ১০ দিনের মধ্যে তদন্তকারী অফিসার, কলকাতা পুরসভার প্রতিনিধি এবং আবেদনকারীদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে প্রয়োজনীয় নথি বা সামগ্রী বের করে আনা যাবে। তবে বিচারপতি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, তদন্তের কাজে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হলে কোনও নথি বা বস্তু সরানোর অনুমতি নাও দিতে পারেন তদন্তকারী অফিসার। সেক্ষেত্রে সেই সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
প্রসঙ্গত, গত ১২ মে তিলজলা থানার অন্তর্গত তপসিয়া এলাকার একটি বহুতলের দ্বিতীয় তলায় আচমকাই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান দুজন। পরে তদন্তে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট ভবনের কোনও বৈধ বিল্ডিং প্ল্যান ছিল না। পাশাপাশি অভিযোগ ওঠে, আবাসনের ভিতরেই বেআইনিভাবে একটি চামড়ার কারখানা চালানো হচ্ছিল। এরপরই প্রশাসন বুলডোজার এনে বাড়িটির একটি অংশ ভেঙে দেয়। এই ভাঙার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই পরে আদালতের দ্বারস্থ হন বাসিন্দারা।

আরও পড়ুন : আসছে নতুন অ্যাপ, নবান্নে বৈঠকের পর আজই বড় সিদ্ধান্ত নেবে সরকার
উল্লেখ্য, গত ১৫ মে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজা বসুচৌধুরীর বেঞ্চ বাড়ি ভাঙার প্রক্রিয়ায় অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয়। আগামী ২২ জুন মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা। তার আগে আদালতের সাম্প্রতিক নির্দেশে অন্তত প্রয়োজনীয় জিনিস ফিরে পাওয়ার আশা দেখছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি। তবে পুরো ঘটনার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অনিশ্চয়তা কাটছে না।




