বন্দে ভারত, বুলেট ট্রেনের পর এবার এয়ার ট্রেন! ভারতের প্রথম ড্রাইভারলেস ট্রেন চালু হতে চলেছে এই শহরে

সবদিক নিউজ:ভারতের রেল ও পরিবহণ ব্যবস্থায় আরও এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। বন্দে ভারত এক্সপ্রেস, মেট্রো এবং বুলেট ট্রেন প্রকল্পের পর এবার দেশের প্রথম চালক-বিহীন এয়ার ট্রেন (Air Train) সিস্টেম চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে দিল্লিতে। রাজধানীর ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অত্যাধুনিক ‘ড্রাইভার লেস এয়ার ট্রেন সিস্টেম’ বা অটোমেটেড পিপল মুভার চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিমানবন্দরের বিভিন্ন টার্মিনালের মধ্যে দ্রুত এবং নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতেই এই নতুন উদ্যোগ। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দিল্লি বিমানবন্দর দেশের প্রথম বিমানবন্দর হিসেবে এমন বিশেষ ট্রেন পরিষেবা পাবে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, যাত্রী পরিষেবাকে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছে দিতেই এই বৃহৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
ভারতের প্রথম চালক বিহীন এয়ার ট্রেন (Air Train) চালু হতে চলেছে দিল্লিতে
প্রস্তাবিত এই ট্রেন পরিষেবার মাধ্যমে দিল্লি বিমানবন্দরের টার্মিনাল ১, টার্মিনাল ২, টার্মিনাল ৩, অ্যারোসিটি এবং কার্গোসিটিকে একই নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে। প্রায় ৭.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ট্রানজিট করিডর তৈরি হবে, যার একাংশ মাটির সমতলে এবং অন্য অংশ এলিভেটেড বা উঁচু পথে চলবে। সম্পূর্ণ ইলেকট্রিকচালিত এই ট্রেনের জন্য আলাদা করিডর নির্মাণ করা হবে, যাতে অন্য যানবাহনের সঙ্গে কোনও রকম সংঘর্ষ বা বিঘ্ন না ঘটে। অত্যাধুনিক সেন্সর, অটোমেটিক কন্ট্রোল সিস্টেম এবং স্মার্ট ট্র্যাকিং প্রযুক্তির সাহায্যে ট্রেনগুলি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলবে। ফলে চালকের প্রয়োজন হবে না। বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্তর্জাতিক মানের এই পরিষেবা যাত্রীদের সময় বাঁচানোর পাশাপাশি বিমানবন্দরের সামগ্রিক পরিবহণ ব্যবস্থাকেও আরও আধুনিক করে তুলবে।
‘এক দেশ এক আইন’- কার্যকরীর পথে আরও এক বিজেপি শাসিত রাজ্য, অসমে পাশ হল অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল
বর্তমানে দিল্লি বিমানবন্দরে এক টার্মিনাল থেকে অন্য টার্মিনালে যাতায়াতের জন্য শাটল বাস পরিষেবা চালু রয়েছে। কিন্তু যানজট, সময় নষ্ট এবং যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে এই ব্যবস্থার উপর চাপ ক্রমশ বাড়ছিল। নতুন চালক-বিহীন ট্রেন চালু হলে সেই সমস্যা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যাঁরা আন্তর্জাতিক বা অভ্যন্তরীণ উড়ানের মধ্যে ট্রানজিট যাত্রী হিসেবে বিমানবন্দরে আসেন, তাঁদের জন্য এই পরিষেবা অত্যন্ত সুবিধাজনক হবে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রানজিট যাত্রীদের এই ট্রেনে যাতায়াতের জন্য কোনও অতিরিক্ত খরচ দিতে হবে না। তবে সাধারণ দর্শনার্থী বা ভিজিটরদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ভাড়া ধার্য করা হতে পারে। যাত্রীদের দ্রুত, নিরাপদ এবং আরামদায়ক পরিষেবা দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
এই বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে আনুমানিক খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫০০ কোটি টাকা। দিল্লি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লিমিটেড বা DIAL-ই পুরো প্রকল্পের অর্থ বহন করবে বলে জানা গিয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সমস্ত অনুমোদন এবং নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এগোলে প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হতে প্রায় ৩০ মাস সময় লাগতে পারে। কাজ শুরু হওয়ার পর ধাপে ধাপে ট্র্যাক, স্টেশন, বিদ্যুৎ সংযোগ এবং অটোমেশন প্রযুক্তি স্থাপনের কাজ করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প সফল হলে ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য বড় বিমানবন্দরেও একই ধরনের চালক-বিহীন ট্রেন পরিষেবা চালু করার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

ভারতের কাছে IRGC-র উপর নিষেধাজ্ঞা চাপানোর আর্জি নেতানিয়াহুর, ইরান-ইজরায়েল টানাপোড়েনে কূটনৈতিক দোলাচলে দিল্লি
সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৭ সালের শেষভাগ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে দিল্লি বিমানবন্দরে এই অত্যাধুনিক এয়ার ট্রেন পরিষেবা চালু হতে পারে। পরিবহণ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প শুধু যাত্রী পরিষেবার উন্নয়ন নয়, বরং ভারতের প্রযুক্তিগত অগ্রগতিরও বড় উদাহরণ হয়ে উঠবে। বিশ্বের একাধিক উন্নত বিমানবন্দরে ইতিমধ্যেই স্বয়ংক্রিয় ট্রেন পরিষেবা চালু রয়েছে। এবার সেই তালিকায় নাম লেখাতে চলেছে ভারতও। বিমানযাত্রাকে আরও দ্রুত, স্মার্ট এবং ভবিষ্যতমুখী করে তুলতেই দেশের এই প্রথম ড্রাইভার-বিহীন এয়ার ট্রেন (Air Train) প্রকল্পকে এক নতুন যুগের সূচনা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।




