বালোচিস্তানের ‘লক্ষ্মীবাই’দের আতঙ্কে কাঁপছে পাক সেনা, ‘কাদ উইং’-এর অভিযানে খতম ৯ জওয়ান!

বালোচ লিবারেশন ফ্রন্ট (BLF)-র স্বাধীনতার লড়াই আরও ভয়াবহ আকার নিল বালোচিস্তানে (Balochistan)। পাক সেনার ঘুম ছুটিয়ে এবার ময়দানে নামল বালোচিস্তানের লক্ষ্মীবাইরা। বালোচ সেনার মহিলা শাখা ‘করিমা আর্মড অ্যাসল্ট ডিভিশন’ (KAAD) জোড়া অভিযানে পাক সেনার ৯ জন জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই সংক্রান্ত এক ভিডিও প্রকাশ্যে এনেছে বিএলএফ।
বিএলএফ-এর তরফে যে ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে, মহিলা যোদ্ধাদের কমান্ডার পর্যায়ের একজন নেত্রী বাকিদের অভিযান সম্পর্কে বোঝাচ্ছেন। একটি অংশে দেখা যাচ্ছে, গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কখনও আবার পাক সেনার গাড়ি লক্ষ্য করে ছোড়া হচ্ছে গুলি। বালোচ সেনার তরফে দাবি করা হয়েছে, কাদ উইং মূলত ২টি জায়গায় অভিযান চালায় কালাতের মাংচার অঞ্চলে এবং তুর্বতের জোসক অঞ্চলে। এই দুই অভিযানে ৯ জন পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
করিমা বালোচের নামে এই ইউনিটের নামকরণ করা হয়েছে। যিনি ছিলেন বালোচ নেত্রী। কানাডায় রহস্যমৃত্যু হয় তাঁর।
বিএলএফের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, তুর্বতের জোসক এলাকায় সিপিইসি সড়কে কনভয়ে হামলা চালাচ্ছে মহিলা যোদ্ধারা। পাকিস্তানি সেনার কুইক রিঅ্যাকশন ফোর্সের কনভয় লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালানো হচ্ছে। ভিডিওর অন্য একটি অংশে দেখা যাচ্ছে। কালাতের মাংচার এলাকায় গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন যোদ্ধারা। বালোচ লিবারেশন আর্মির দাবি, বছরের পর বছর ধরে ট্রেনিং দিয়ে তাঁরা এই মহিলা ব্রিগেড তৈরি করেছে। বালোচিস্তানের স্বাধীনতার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এই ব্রিগেড। করিমা বালোচের নামে এই ইউনিটের নামকরণ করা হয়েছে। যিনি ছিলেন একজন বালোচ নেত্রী। কানাডায় রহস্য মৃত্যু হয় তাঁর।
BLF CLAIMS 9 PAKISTANI PERSONNEL KILLED IN ATTACKS
The Balochistan Liberation Front (BLF) claims its female Karima Armed Assault Division (KAAD) carried out attacks in Mangocher and Turbat, killing 9 Pakistani military personnel and injuring several others.
The group released… pic.twitter.com/ueGhQ5QBFA
— Subodh Kumar (@kumarsubodh_) September 29, 2026
উল্লেখ্য, বালোচিস্তানের পাকিস্তানি শাসনের শৃঙ্খল ভেঙে ফেলতে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করছে বালোচ লিবারেশন আর্মি। বিরাট সেনাবল নিয়ে লড়াইয়ে নেমেও এই অঞ্চলে রীতিমতো নাকানি চোবানি খেতে হচ্ছে পাক সেনাকে। এই অবস্থায় পালটা গুমখুন, হত্যা ও ধর্ষণের মতো অমানুষিক অত্যাচার চালিয়ে বিদ্রোহের আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে ইসলামাবাদ। বিশেষ করে চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর তৈরি হওয়ার পর থেকেই আরও অশান্ত হয়ে উঠেছে বালোচিস্তান। অভিযোগ, খনিজ সমৃদ্ধ প্রদেশটিকে কার্যত লুট করছে পাক প্রশাসন। প্রতিদানে বালোচ জনতা পেয়েছে শুধু নির্যাতন ও দারিদ্র। তারই প্রতিবাদে স্বাধীনতার মরণপণ লড়াইয়ে নামে সেখানকার মানুষ।
শেয়ার
লিংক



