বিজেপি সরকারের বড় সিদ্ধান্ত, হাওড়ার গঙ্গাপাড়ে আসছে নজিরবিহীন বদল

বাংলা হান্ট ডেস্ক : হাওড়ার গঙ্গার ঘাটগুলির (Howrah Ganga Ghat) দুরবস্থা নতুন কিছু নয়। নদীর ধারে জমে থাকা আবর্জনা, এদিক-ওদিক ছড়িয়ে থাকা ভাঙা প্রতিমার অংশ এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগের কারণ। এর ফলে যেমন দূষণের মাত্রা বাড়ছে, তেমনই নষ্ট হচ্ছে নদীতীরের সৌন্দর্য। মানুষের ফেলে যাওয়া নানাবিধ বর্জ্যের কারণে চারপাশে অসহ্য দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে, যা গঙ্গার স্বাভাবিক নির্মল পরিবেশকেও ম্লান করে দেয়। তবে এবার এই পরিস্থিতির পরিবর্তনে বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হাওড়ার গঙ্গার ঘাট (Howrah Ganga Ghat) নতুন রূপে
রাজ্য সরকার ও পোর্ট ট্রাস্ট যৌথভাবে ঘাটগুলির উন্নয়ন ও সৌন্দর্যায়নের পরিকল্পনা করেছে। একই সঙ্গে গ্র্যান্ড ফোরশোর রোডকে নতুন সাজে গড়ে তোলার রূপরেখাও তৈরি হয়েছে, যা কলকাতার স্ট্র্যান্ড রোডের আদলে নির্মিত হবে। এই প্রকল্পের সূচনাতেই রামকৃষ্ণপুর ঘাট সংলগ্ন গঙ্গার বুকে স্থাপন করা হবে ‘দুর্গা শক্তি’ নামে ৬০ ফুট উঁচু একটি ধাতব ভাস্কর্য। এর জন্য আনুমানিক খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা। এলাকার অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে রামকৃষ্ণপুর ঘাটে পৌঁছন পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পোর্ট ট্রাস্ট এবং ন্যাশনাল বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন লিমিটেড (এনবিসিসি)-এর প্রতিনিধিরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, হাওড়া ব্রিজ থেকে বিদ্যাসাগর সেতু পর্যন্ত বিস্তৃত গঙ্গার তীরবর্তী অঞ্চলকে আধুনিক পরিকাঠামো ও নান্দনিক নকশায় সাজিয়ে তোলা হবে। পুরো কাজটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে গঙ্গার উপর নির্মিত হবে ‘দুর্গা শক্তি’ ভাস্কর্য। মূল কাঠামোর দু’দিকে বসানো হবে প্রায় ২০ ফুট উচ্চতার দু’টি ধাতব ধুনুচি। নির্মাণকারী সংস্থার বক্তব্য, নদীর জোয়ার-ভাটা এবং বর্ষার সময়ের তীব্র স্রোতের মধ্যে এমন স্থাপনা তৈরি করা অত্যন্ত জটিল। সেই কারণেই বিশেষ প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আসন্ন দুর্গাপুজোর আগেই এই কাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘হাওড়া শহর এতদিন আবর্জনার ও মোটবাহকদের শহর হিসেবে পরিচিত ছিল। গঙ্গার ওপারে কলকাতার স্ট্র্যান্ড রোডের ঝাঁ চকচকে চেহারা দেখতাম। এবার হাওড়ার গঙ্গার পাড়ও একইভাবে সেজে উঠবে। হাওড়াকে ঝাঁ-চকচকে করে তোলার যে শপথ নিয়েছি তা পূরণ করবই।’

আরও পড়ুন : ভোটে হেরে পরপর ধাক্কা! এবার মমতার ‘১ সেকেন্ড’ মন্তব্য নিয়ে থানায় দায়ের অভিযোগ
পোর্ট ট্রাস্টের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে গঙ্গার ধারে গড়ে উঠবে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন হোটেল, রেস্তরাঁ, বিপণিবিতান, পার্ক এবং চিকিৎসাকেন্দ্র। এছাড়া লন্ডন আইয়ের আদলে বিশাল আকারের একটি ক্যান্টিলিভার অবজারভেশন হুইল নির্মাণের ভাবনাও রয়েছে।




