0%

ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ইস্তফা কৃষ্ণার, বিধাননগর পুরনিগমেও তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া

বিধাননগর পুরনিগমের মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী। বৃহস্পতিবার দুপুরে পুরনিগমের কমিশনারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। একই সঙ্গে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের সচিবের কাছেও পদত্যাগপত্রের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

কৃষ্ণার মেয়াদ শেষ হতে এখনও প্রায় আট মাস বাকি ছিল। ২০১৯ সাল থেকে দু’দফায় তিনি বিধাননগরের মেয়রের দায়িত্ব সামলেছেন। তাঁর আগে এই পদে ছিলেন সব্যসাচী দত্ত। পরে তাঁকে সরিয়ে কৃষ্ণাকে মেয়র করে তৃণমূল নেতৃত্ব। বর্তমানে সব্যসাচী দত্ত পুরনিগমের চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন।

– বিজ্ঞাপন –

পদত্যাগের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কৃষ্ণা বলেন, “সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করছি।” পরে তিনি জানান, যে ভাবে কাজ করতে চেয়েছিলেন, সেই ভাবে আর কাজ করা সম্ভব হচ্ছিল না। তাঁর অভিযোগ, নিয়মিত বোর্ড মিটিং হচ্ছিল না, অনেক কাউন্সিলর বৈঠকে আসছিলেন না এবং আধিকারিকদেরও প্রয়োজনীয় সময় পাওয়া যাচ্ছিল না। তাই মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতে চাননি বলেই এই সিদ্ধান্ত।

তবে মেয়র পদ ছাড়লেও কাউন্সিলর হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। বিধাননগরের মানুষের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন কৃষ্ণা। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার কাছে মায়ের মতো।”

রাজনৈতিক মহলে কৃষ্ণা চক্রবর্তীকে দীর্ঘদিন ধরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে দেখা হয়। যুব কংগ্রেসের সময় থেকেই তাঁর সঙ্গে মমতার রাজনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের সময় থেকেই তিনি দলের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর স্বামী সমীর চক্রবর্তী, যিনি ‘বুয়া’ নামে পরিচিত, তিনিও পরে তৃণমূলে যোগ দেন।

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভা ও পুরনিগমে একের পর এক পদত্যাগের ঘটনা সামনে এসেছে। বুধবার কলকাতার মেয়র পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলে খবর ফিরহাদ হাকিমকে ঘিরে। তার আগে চন্দননগর পুরনিগমের মেয়র রাম চক্রবর্তীর পদত্যাগও রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন ফেলেছিল।

বিজ্ঞাপন

এই পরিস্থিতিতে কৃষ্ণা চক্রবর্তীর পদত্যাগকে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে না দেখে বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবর্তনের অংশ হিসেবেও দেখছেন অনেক পর্যবেক্ষক। ফলে বিধাননগর পুরনিগমের ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো এবং নতুন নেতৃত্ব নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker