ব্রিটেনে ইতিহাস গড়ল ভারতীয় বংশোদ্ভূত পরিবার! এক সপ্তাহের ব্যবধানে মা-ছেলে দু’জনেই হলেন মেয়র

বাংলাহান্ট ডেস্ক: হরিয়ানার রোহতকের এক সাধারণ পরিবার আজ ব্রিটেনের রাজনৈতিক মানচিত্রে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। ২০১৩ সালে উন্নত ভবিষ্যতের আশায় ব্রিটেনে (Britain) পাড়ি দিয়েছিলেন সুনীল দাহিয়া ও তাঁর পরিবার। তখন তাঁদের লক্ষ্য ছিল শুধুই নতুন দেশে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা। কিন্তু মাত্র এক দশকের ব্যবধানে সেই পরিবারের মা ও ছেলে ব্রিটেনের দুটি পৃথক কাউন্সিলের মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে নজির গড়েছেন। ২৩ বছর বয়সী তুষার কুমার এলস্ট্রি অ্যান্ড বোরহ্যামউড টাউন কাউন্সিলের মেয়র হিসেবে শপথ নিয়ে ব্রিটেনের সর্বকনিষ্ঠ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেয়র হয়েছেন। অন্যদিকে তাঁর মা পরভীন রানি হার্টস্মিয়ার বোরো কাউন্সিলের মেয়র নির্বাচিত হয়ে প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী হিসেবে এই সম্মান অর্জন করেছেন। মা ও ছেলের এই যুগ্ম সাফল্য এখন ব্রিটেনে বসবাসকারী ভারতীয় সম্প্রদায়ের কাছে গর্বের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
ব্রিটেনে (Britain) এক সপ্তাহের ব্যবধানে মা-ছেলে দু’জনেই হলেন মেয়র:
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, যখন তাঁরা ব্রিটেনে পৌঁছেছিলেন তখন তুষারের বয়স ছিল মাত্র দশ বছর। নতুন পরিবেশ, নতুন সংস্কৃতি এবং জীবনের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে প্রথম দিকে যথেষ্ট সংগ্রাম করতে হয়েছিল পরিবারটিকে। তবে সমাজের জন্য কাজ করার মানসিকতা তাঁদের বরাবরই ছিল। তুষারের বাবা সুনীল দাহিয়া জানিয়েছেন, ব্রিটেনে আসার পর থেকেই পরভীন রানি এবং তুষার স্থানীয় মানুষের পাশে দাঁড়াতে শুরু করেন। বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে নিজেদের যুক্ত করেন তাঁরা। ধীরে ধীরে স্থানীয় মানুষদের মধ্যে তাঁদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে থাকে। ভারতীয় সংস্কৃতি, মূল্যবোধ এবং সমাজসেবার শিক্ষা নিয়েই তাঁরা নতুন দেশে নিজেদের পরিচয় গড়ে তুলেছিলেন। মানুষের আস্থা অর্জনের মাধ্যমেই শুরু হয় তাঁদের রাজনৈতিক যাত্রা।
আরও পড়ুন: হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করে এখন বিদেশে পৌঁছেছে প্রোডাক্ট! প্রতি মাসে বিপুল উপার্জন রিচার
তুষার কুমারের উত্থান বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। লন্ডনে কলেজে পড়ার সময় মাত্র ২০ বছর বয়সে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে তিনি সকলকে চমকে দিয়েছিলেন। অল্প বয়সেই তাঁর নেতৃত্বের দক্ষতা এবং মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষমতা তাঁকে জনপ্রিয় করে তোলে। ২০২৩ সালে মা ও ছেলে একসঙ্গে কাউন্সিলর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং দু’জনেই জয়ী হন। এরপর ২০২৫ সালে তুষার ডেপুটি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই চলতি বছরের ১৩ মে তিনি পূর্ণ মেয়র হিসেবে শপথ নেন। ঠিক এক সপ্তাহ পর, ২০ মে তাঁর মা পরভীন রানিও মেয়র হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, ব্রিটেনের স্থানীয় প্রশাসনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত পরিবারের এমন সাফল্য অত্যন্ত বিরল এবং তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণাদায়ক।
পরভীন রানির দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাও তাঁর সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি। মেয়র হওয়ার আগে তিনি হার্টস্মিয়ার এলাকায় স্ট্রিটসিন, পার্কস, লিজ়ার ও কালচার বিভাগের ক্যাবিনেট সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন। পাশাপাশি ডেপুটি মেয়র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। ফিল্ম ও টেলিভিশনের গ্লোবাল এনভয় হিসেবেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। অন্যদিকে তুষার লন্ডনের কিংস কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং খুব শীঘ্রই মাস্টার্সে ভর্তি হতে চলেছেন। পরিবারের শিক্ষার পরিবেশও যথেষ্ট শক্তিশালী। তুষারের ছোট ভাই বর্তমানে একই কলেজে পড়াশোনা করছেন এবং স্টুডেন্টস ইউনিয়নের ট্রাস্টি হিসেবেও কাজ করছেন। ফলে শিক্ষা, সমাজসেবা ও প্রশাসনিক দক্ষতার এক অনন্য মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে এই পরিবারে।

আরও পড়ুন: রান্নায় তেলের পরিমাণ বেশি হয়ে গেলে কী করবেন? জেনে নিন সহজ সমাধান
বিদেশের মাটিতে এত বড় সাফল্য অর্জন করলেও নিজেদের শিকড়কে ভোলেননি দাহিয়া পরিবার। সুনীল দাহিয়া জানিয়েছেন, প্রতি বছরই তাঁরা রোহতকের গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসেন এবং সন্তানদের ভারতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির শিক্ষা দিয়ে বড় করেছেন। তুষার কুমারের কথায়, সমাজকল্যাণের কাজে যুক্ত হতে গেলে বয়স কোনও বাধা নয়। মানুষের জন্য কাজ করার ইচ্ছা এবং আত্মবিশ্বাসই একজন মানুষকে সফল করে তোলে। মাত্র ২৩ বছর বয়সে মেয়রের আসনে বসে তিনি সেই বার্তাই বিশ্বকে দিয়েছেন। তাঁর এই সাফল্য শুধু ব্রিটেনেই (Britain) নয়, গোটা বিশ্বের ভারতীয় সম্প্রদায়ের কাছেও গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে।




