ভিসা ছাড়া আর নয় থাইল্যান্ড সফর!ভারতীয় পর্যটকদের জন্য কড়া নতুন নিয়ম, সঙ্গে রাখতেই হবে এই নথি

সবদিক নিউজ:থাইল্যান্ডে (Thailand) বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে এবার থেকে আগের তুলনায় একটু বেশি প্রস্তুতি নিয়েই রওনা হতে হবে। কারণ, ভারতীয় পর্যটকদের জন্য দীর্ঘদিন চালু থাকা ভিসা-ফ্রি প্রবেশের সুবিধা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করেছে থাইল্যান্ড সরকার। এর পরেই ভারতীয় দূতাবাস ভ্রমণকারীদের জন্য একটি নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। দূতাবাস জানিয়েছে, এখন থেকে ভারতীয় নাগরিকদের ভিসা অন অ্যারাইভাল (Visa on Arrival) ব্যবস্থার মাধ্যমে থাইল্যান্ডে প্রবেশ করতে হবে। পাশাপাশি যাত্রার আগে অনলাইনে থাইল্যান্ড ডিজিটাল অ্যারাইভাল কার্ড (TDAC) পূরণ করাও বাধ্যতামূলক। এই ফর্ম জমা দেওয়ার পর একটি QR কোড তৈরি হবে, যা বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার সময় দেখাতে হবে। তাই শেষ মুহূর্তের ঝামেলা এড়াতে সফরের আগে সমস্ত নথি এবং অনলাইন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় পর্যটকদের জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি থাইল্যান্ডের (Thailand)
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে পর্যটন শিল্পকে উৎসাহ দিতে ভারত-সহ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা ছাড়া প্রবেশের সুযোগ চালু করেছিল থাইল্যান্ড। সেই সিদ্ধান্তে ভারতীয় পর্যটকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছিল এবং গত এক বছরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভারতীয় দেশটিতে ভ্রমণ করেছেন। তবে সম্প্রতি সীমান্ত নিরাপত্তা, অভিবাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে থাই মন্ত্রিসভা ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন আনে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভারতকে ভিসামুক্ত দেশের তালিকা থেকে সরিয়ে ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধাপ্রাপ্ত দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভারতের পাশাপাশি আজারবাইজান, বেলারুশ এবং সার্বিয়াকেও একই শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। থাই সরকারের দাবি, পর্যটনকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও আরও শক্তিশালী করাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।
শিক্ষকদের PF-এ সুদের টাকা ঢুকতে শুরু করেছে, আপনার অ্যাকাউন্টে কত এল জানবেন কীভাবে?
ভারতীয় দূতাবাসের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, থাইল্যান্ডে পৌঁছানোর সময় প্রত্যেক যাত্রীর কাছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথি থাকা বাধ্যতামূলক। পাসপোর্টের মেয়াদ থাইল্যান্ডে প্রবেশের দিন থেকে অন্তত ছয় মাস বৈধ থাকতে হবে। সঙ্গে থাকতে হবে নিশ্চিত রিটার্ন টিকিট অথবা অন্য দেশে যাওয়ার বিমান টিকিট। এছাড়া হোটেল বুকিংয়ের প্রমাণপত্র বা থাকার নির্দিষ্ট ঠিকানার তথ্য, ভ্রমণের পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা বা ট্রাভেল ইটিনেরারি এবং যাত্রার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অনলাইনে পূরণ করা TDAC-এর QR কোডও দেখাতে হবে। ইমিগ্রেশন অফিসাররা চাইলে এসব নথি যাচাই করতে পারেন। তাই কোনও নথি অসম্পূর্ণ থাকলে বিমানবন্দরেই সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে।
নতুন নিয়মে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ। ভিসা অন অ্যারাইভাল ব্যবহারকারী প্রত্যেক ভারতীয় যাত্রীর কাছে অন্তত ২০ হাজার থাই ভাট সমমূল্যের নগদ অর্থ বা তার সমতুল্য আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ থাকতে হবে। প্রয়োজন হলে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তা দেখতে চাইতে পারেন। এছাড়া যারা পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে দলবদ্ধভাবে ভ্রমণ করবেন, তাঁদের প্রত্যেককে নিজেদের পাসপোর্ট, বুকিং, টিকিট এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি আলাদাভাবে সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শুধু একজনের কাছে সব কাগজপত্র থাকলে তা গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। অন্যদিকে, যারা চাকরির উদ্দেশ্যে বা এমপ্লয়মেন্ট ভিসায় থাইল্যান্ডে যাচ্ছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ভিসা অন অ্যারাইভাল প্রযোজ্য নয়। সেক্ষেত্রে নির্ধারিত ওয়ার্ক ভিসা থাকলেই প্রবেশের অনুমতি মিলবে।
UCC-এর পথে চিন? ৫৬ জাতিগোষ্ঠীর জন্য বড় পদক্ষেপ শি জিনপিংয়ের
বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে থাইল্যান্ড এখনও ভারতীয়দের কাছে সমান আকর্ষণীয়। নতুন নিয়ম চালু হলেও ভারতীয় পর্যটকদের জন্য দেশটির দরজা বন্ধ হয়নি। তবে আগের তুলনায় ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া অনেক বেশি কড়া এবং নথি যাচাই আরও বিস্তারিতভাবে করা হবে। তাই ভ্রমণের আগে সমস্ত নিয়ম ভালোভাবে জেনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নথি, নির্ধারিত অনলাইন নিবন্ধন এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক প্রমাণ সঙ্গে থাকলে থাইল্যান্ড (Thailand) সফরে কোনও সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বরং আগে থেকেই সচেতন থাকলে বিমানবন্দরে অযথা হয়রানি এড়িয়ে নিশ্চিন্তে উপভোগ করা যাবে কাঙ্ক্ষিত বিদেশ সফর।



