0%

ভোটের রেজাল্টের আগেই বিস্ফোরক রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল, বলেই ফেললেন, দেখে মনে হচ্ছে…

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটের রেজাল্টের আগে হাইকোর্টের পর সুপ্রিম কোর্টেও (Supreme Court) ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। গণনাকেন্দ্রে সুপারভাইজার হিসাবে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদেরই নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তৃণমূলের (Trinamool Congress) করা মামলা খারিজ করেছে সর্বোচ্চ আদালত। যদিও তৃণমূলের আইনজীবী কপিল সিব্বলের (Kapil Sibal) দাবি, আদালতের নির্দেশের ‘ভুল ব্যাখ্যা’ হচ্ছে। শীর্ষ আদালত তাঁদের আর্জি খারিজ করেনি।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ব্যাখ্যা সিব্বলের | Kapil Sibal

কমিশনের তরফে জারি করা বিজ্ঞপ্তি ত্রুটিপূর্ণ বলে হাইকোর্টে আবেদন করে তৃণমূল। তাদের যুক্তি ছিল, ওই বিজ্ঞপ্তিটি থাকাই উচিত নয়। সিব্বল বলেন, কমিশনের বিজ্ঞপ্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শনিবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, ভোট গণনার কাজে নিযুক্ত কাউন্টিং সুপারভাইজ়ার এবং কাউন্টিং অ্যাসিসট্যান্ট কেন্দ্রীয় সরকার বা রাজ্য সরকারেরও কর্মী হতে পারেন।

সিব্বলের কথায়, “কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, বিভিন্ন সূত্র থেকে তাদের কাছে খবর এসেছে ভোট চলাকালীন বুথগুলিতে বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। তাই প্রত্যেক বুথে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি হিসাবে একজন করে কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিক নিয়োগ করা হবে।”

সিব্বল বলেন, কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং বিজ্ঞপ্তিই সঠিক বলে পর্যবেক্ষণে জানায় হাইকোর্ট। সেই নির্দেশের বিরোধীতা করেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় তৃণমূল। বিজ্ঞপ্তিটি যাতে যথাযথ ভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়, সেই আবেদন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যান তাঁরা।

সিব্বলের কথায়, “সার্কুলারে বলা হয়েছে, গণনার কাজে কেন্দ্র এবং রাজ‍্য সরকারি কর্মীদের র‍্যান্ডম সিলেকশন করা হবে। আদালত বলে আপনারা তো ওখানে সার্কুলারকে চ্যালেঞ্জ করছিলেন। আমরা তখন জানাই যে আমরা সার্কুলার লাগু করার আবেদন করি। আদালতও নোট করেছে যে সার্কুলারকে “লেটার অ‍্যান্ড স্পিরিটে” মানবে বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে।”

শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবী বলেন, নির্বাচন কমিশনের সার্কুলারে বলা হয়েছে একজন রাজ্য সরকারি অফিসার থাকবে। তাহলে কেন শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের নিয়োগ করা হচ্ছে? সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বলেন, “সার্কুলারে বলা আছে, কাউন্টিং সুপারভাইজার এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট রাজ্য সরকারি কর্মচারীও হতে পারেন, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীও হতে পারেন।”

বিচারপতি বাগচীর কথায়, “যখন অপশন রয়েছে , তখন আমরা কীভাবে বলি যে এই পদক্ষেপ নির্দেশিকা বিরোধী?” এমনকী সার্কুলার অনুযায়ী দুজনেই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী হতে পারেন বলে মন্তব্য করেন বিচারপতি।

আরও পড়ুন: গণনাকেন্দ্র‌ ঘিরে কড়া প্রস্তুতি, বিজেপি কম ব্যবধানে এগোলে পুনর্গণনা- কঠোর নির্দেশ মমতার

পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রের বাড়তি নজর বলে মন্তব্য করেন সিব্বল বলেন, “মনে হচ্ছে বিজেপির নজর আর অন‍্য কোথাও নেই। পশ্চিমবঙ্গ তো ভারতেই। অন‍্য কোথাও তো নয়। তামিলনাড়ু, কেরল কোথাও নেই। বাংলায় যত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে, সেটা মনিপুর আর জম্মু কাশ্মীরেও নেই। দেখে মনে হচ্ছে, ওখানে সিজ হচ্ছে। ”

এখানেই শেষ নয়। সিব্বল আরও বলেন, “কোনও যুদ্ধ চলছে নাকি? নির্বাচনই চলছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীও রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা কমিশনের দায়িত্ব থাকার পরও কীসের ভয়? কী উদ্দেশে এসব করছেন?” আদালতে প্রশ্ন সিব্বলের।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker