ভোটে ভরাডুবির পর ‘আশ্রম রাজনীতি’! পটনার উপকণ্ঠে নতুন ঠিকানা প্রশান্ত কিশোরের

সবদিক নিউজ: বিহারের রাজনীতিতে ফের চর্চার কেন্দ্রে জন সূরয পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর। ভোটে বড় ধাক্কার পর এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। পটনার বিলাসবহুল বাংলো ছেড়ে আশ্রমে গিয়ে উঠেছেন দেশের অন্যতম পরিচিত ভোটকৌশলী থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা এই নেতা। জানিয়েছেন, আগামী দিনে দলকে শক্ত ভিত না দেওয়া পর্যন্ত সেখান থেকেই তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবেন।
দ্বারভাঙায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রশান্ত জানান, মঙ্গলবার রাতেই তিনি পটনার বাসভবন ছেড়ে আইআইটি-পটনার কাছে অবস্থিত ‘বিহার নবনির্মাণ আশ্রম’-এ চলে গিয়েছেন। আপাতত সেটাই তাঁর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হবে।
তাঁর কথায়, “বিহারের পরিবর্তনের জন্য যে আন্দোলন শুরু করেছি, তা শুধু নির্বাচনী রাজনীতি নয়। সাধারণ মানুষের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হওয়ার জন্যই এই সিদ্ধান্ত।”
বিলাসবহুল বাংলো ছেড়ে আশ্রমে
২০২৪ সালে রাজনৈতিক কনসালটেন্সি সংস্থা আইপ্যাক ছেড়ে সরাসরি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন প্রশান্ত কিশোর। এরপর তিনি গড়ে তোলেন জন সূরয পার্টি। এতদিন দলের সমস্ত সাংগঠনিক কাজ চলত পটনা বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত ‘শেখপুরা হাউস’ থেকে।
এই বিশাল বাংলোর মালিক দলের জাতীয় সভাপতি ও প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ উদয় সিং-এর পরিবার। বিহারের প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারগুলির মধ্যে অন্যতম তাঁদের পরিবার। উদয় সিংয়ের দাদা এন কে সিং ছিলেন পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও রাজ্যসভার সদস্য। তাঁদের মা মাধুরী সিং বহুবার পূর্ণিয়া থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন।
‘জাতপাত নয়, ভবিষ্যতের কথা ভাবুন’
সাম্প্রতিক সময়ে বিহারের রাজনীতিতে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছেন প্রশান্ত কিশোর। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার-এর বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে তোপ দেগেছেন তিনি।
ভোটারদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “জাতি, ধর্ম কিংবা টাকার বিনিময়ে ভোট দেবেন না। নিজেদের সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে ভোট দিন।”
তিনি আরও বলেন, “নরেন্দ্র মোদি, নীতীশ কুমার বা লালু প্রসাদ যাদব-এর নাম শুনে প্রভাবিত হওয়া উচিত নয়। ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভোট বিক্রি করলে বিহারের ভবিষ্যৎ বদলাবে না।”
নির্বাচনে বড় ধাক্কা
অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেছিলেন, প্রশান্ত কিশোরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা জন সূরয পার্টিকে শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে তুলে ধরবে। কিন্তু ২০২৫ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
২৩৮টি আসনে প্রার্থী দিয়েও একটিও আসনে জয় পায়নি জন সূরয। মাত্র ৩.৪৪ শতাংশ ভোট পেয়েই থেমে যায় দলটি। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর প্রশান্ত কিশোর প্রকাশ্যে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করেছিলেন।
তিনি বলেছিলেন, “মানুষের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা সফল হতে পারিনি। এই ব্যর্থতার দায় আমার।”
নতুন কৌশল নাকি ভাবমূর্তি বদলের চেষ্টা?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আশ্রমে গিয়ে ওঠার সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নয়, এর মধ্যে রাজনৈতিক বার্তাও রয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে ‘ত্যাগী’ ও ‘মাটির কাছাকাছি’ নেতার ভাবমূর্তি তৈরি করার কৌশল হিসেবেও এই পদক্ষেপকে দেখা হচ্ছে।
একাংশের মতে, ভোটে ভরাডুবির পর সংগঠনকে নতুনভাবে গড়ে তুলতেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করছেন প্রশান্ত কিশোর। আশ্রম থেকে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানোর সিদ্ধান্ত সেই বৃহত্তর কৌশলেরই অংশ হতে পারে।



