0%

‘রিগিং হল ধরতে পারলেন না’, ফলতার পুনর্নির্বাচন ঘিরে কমিশনকে তোপ কুণালের

বাংলা হান্ট ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election) দুই দফা ভোটগ্রহণে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। সাঁজোয়া গাড়ি, বিপুল সংখ্যক সিআরপিএফ মোতায়েন, এবং সর্বত্র সিসিটিভি নজরদারির মধ্যে দিয়ে ভোট সম্পন্ন হয়। কঠোর নজরদারির মধ্যে নির্বাচন হলেও, তার পরেও কিছু জায়গায় অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই কারণেই কয়েকটি কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত কেন্দ্র হল ফলতা। ফলতায় পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত ঘিরে এবার সরব হয়েছেন বেলেঘাটা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)।

কী বলেছেন কুণাল ঘোষ(Kunal Ghosh) ?

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল প্রার্থী। এত কড়া নিরাপত্তার পরেও যদি পুনরায় ভোটগ্রহণ করতে হয়, তাহলে সেই ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে বলে মত তাঁর। কুণাল ঘোষ বলেন, “আপনাদের বজ্র-আঁটুনি কি তাহলে ফস্কা গেরো? এত কিছু..এত কিছু…এত কিছু… তারপর গোটা ফলতাজুড়ে রিগিং হল আর আপনারা ধরতে পারলেন না?”

তাঁর বক্তব্য, ভোটের দিন এত বড় অনিয়ম যদি হয়ে থাকে, তাহলে সেই মুহূর্তে কমিশন কেন তা শনাক্ত করতে পারেনি। পরে কেন পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, “গন্ডারের গায়ে সুড়সুড়ি দিলেন তিনদিন পর হাসে,এত রিগিং হল ওই দিন ধরতে পারলেন না…।”

এখানেই থেমে থাকেননি কুণাল। তিনি পুলিশ পর্যবেক্ষককে কটাক্ষ করে আরও বলেন, “আপনাদের মুজরো সিঙ্ঘম এত ডায়লগ…এত ডায়লগ.. রিগিং হল..ধরতে পারলেন না? ওকে কেন পার পাবে? এত সেন্ট্রাল ফোর্স ধরতে পারল না?আসলে সবটাই উদ্দেশ্য প্রণোদিত। যখন পুনর্নিবাচন কমিশন করছে..সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২৩০ আসন পেয়ে গিয়েছেন।”

অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের একাধিক বুথে নির্বাচনী অনিয়ম ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেই কারণেই পুরো কেন্দ্রের ভোট বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ২১ মে ফলতায় পুনরায় ভোটগ্রহণ হবে এবং ২৪ মে ফল ঘোষণা করা হবে।

আরও পড়ুন :‘মাছ চোর’ গান নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে, এবার আইনি পথে হাঁটতে চলেছেন শওকত মোল্লা

কমিশনের মতে, একটি মাত্র কেন্দ্রের ফল গণনা না হলেও সামগ্রিক নির্বাচনী ফলাফলে তার বিশেষ প্রভাব পড়বে না। যদিও পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ইতিহাসে এই ধরনের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত বিরল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। ফলতা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। ভোটের ফল ঘোষণার আগেই এই ইস্যু নতুন করে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker