0%

শীতে মাথা ঢেকে ঘুমোচ্ছেন? বাড়ছে শ্বাসকষ্ট-ঝুঁকি, সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞরা – সবদিক

শীতে জবুথবু গোটা বাংলা। সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পারদ প্রতিদিন নিম্নগামী হচ্ছে। ঠান্ডার প্রকোপ যত বাড়ছে ততই মানুষ মোটা লেপ-কম্বল ও চাদরে ঢেকে ফেলছে। বিশেষ করে শীতে অনেকেরই অভ্যাস থাকে আপাদমস্তক লেপ বা কম্বলে ঢাকা দিয়ে শোওয়ার। এই পদ্ধতিতে হয়ত ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচা যায় কিন্তু শারীরিক বিপদের আশঙ্কা বাড়ে।

গবেষণায় দেখা গেছে, আপাদমস্তক লেপ বা কম্বলে মাথা ঢেকে শুলে বিশেষ করে মুখ ঢেকে শুলে শ্বাসপ্রশ্বাসে কষ্ট হয়। হাওয়া চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয়। ঘুমের সমস্যা হয়। ফুসফুসের সমস্যা আগে থেকেই থাকলে শ্বাসকষ্টর সমস্যা আরও বেশি পরিমাণে বাড়ে। মুখ ঢেকে ঘুমোলে মুখের চারপাশে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বাড়ে কমে যায় অক্সিজেনের মাত্রা। তাপ আটকে যায়। শ্বাসকষ্টর সমস্যা হয়। ঘুমের সমস্যা দেখা যায়। কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

শীতকালে আবহাওয়া রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে যায়। ইদানীং বায়ুদূষণের মাত্রাও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে রাতে ঘরের সব জানলা, দরজা বন্ধ করে রাখে, তাই ঘরের ভেতরের হাওয়া চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হলে সে সময় আপাদমস্তক লেপ বা কম্বল মুড়ি দিয়ে শুলে বিপদের আশঙ্কা বাড়ে। মুখ ঢেকে শুলে যে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে আমরা বের করে দিচ্ছি তা মুখ আর নাকের চারপাশে আটকে যায়। ফ্রেশ অক্সিজেনের চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয়। তাপ আটকে গেলে মাথার চারপাশের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বেড়ে যায়। এতে ঘুমের সমস্যা দেখা যায়। রাতে ঘাম হয় অনেকের। ভালো ঘুমের জন্য কত ঘণ্টা নির্বিঘ্নে ঘুমোনো হচ্ছে তার পাশাপাশি ভালো হাওয়া চলাচল করা, স্বাভাবিক শ্বাস নেওয়ার পরিস্থিতি আর স্বাভাবিক দেহের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতাও সমান ভাবে জরুরি।

ব্রিদিং ম্যানেকুইনের ওপর গবেষণা চালানো হয়। মাথা ঢেকে ব্রিদিং ম্যানেকুইন বা পুতুলকে রাখা হয়। তাতে দেখা যায় কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস যা বের করে দেওয়া হয়েছে তা বেশি পরিমাণে আবার শরীরে ঢুকছে। অক্সিজেনের মাত্রা কমে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বাড়লে শ্বাসকষ্ট দেখা যায়।

কাদের পক্ষে ক্ষতিকর আপাদমস্তক মাথা ঢেকে ঘুমোনো

অ্যাজমা, সিওপিডির মতো ফুসফুসের রোগ থাকলে মাথা ঢেকে ঘুমোনো বিপজ্জনক। হাওয়া চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হলে শ্বাসকষ্টর সমস্যা দেখা যায়। শিশুদের জন্যও বিপজ্জনক। ঘুমের সময় অনেক মানুষের নিঃশ্বাস আচমকা বন্ধ হয়ে যায়। স্লিপ অ্যাপনিয়ার সমস্যা থাকলে বদ্ধ জায়গায় আপাদমস্তক মাথা ঢেকে ঘুমোনোর বিপজ্জনক। শীতে বেশি ঠান্ডা লাগলে হালকা গরমের পোশাক পরে শোবেন। দেহ ঢেকে রাখুন, মাথা ঢেকে ঘুমোবেন না। নাক ও মুখ ঢেকে ঘুমোলে অক্সিজেন চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয়। শীতে ঘরের ভেতরের হাওয়া চলাচল ঠিক আছে কিনা দেখবেন। ভারী লেপ বা কম্বলে মাথা ঢেকে শোবেন না।

আরও পড়ুন: হাই ফ্যাট চিজ খেলে কমতে পারে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি! নয়া গবেষণার দাবি

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker