সংসারের অভাব থামাতে পারেনি স্বপ্নকে, উচ্চমাধ্যমিকে সাঁওতালিতে প্রথম হয়ে অনুপ্রেরণা মণিমালা

সবদিক নিউজ: ছোটবেলা থেকেই অভাবকে সঙ্গে নিয়ে বড় হয়ে উঠেছিল দুই বোন। পাশাপাশি ছোটবেলাতেই হারাতে হয়েছিল বাবাকে। তারপর মায়ের দীর্ঘ লড়াই শুরু। চাষ করে দুই মেয়েকে মানুষ করে তোলেন ঝাড়গ্ৰামের (Jhargram) বেলপাহাড়ির মুড়ানশোল গ্রামের সকলমনি বেসরা। অভাবের সংসার হলেও দুই মেয়ের পড়াশোনা কোনোভাবেই বন্ধ হতে দেননি তাদের মা। অবশেষে দুই মেয়ের সাফল্যে মুখে হাসি ফুটেছে সকলমনি বেসরার। শুধু তাই নয় এবার উচ্চমাধ্যমিকে মণিমালা নজর কাড়া ফল করে রাজ্যে সাঁওতালি ভাষা প্রথম স্থান অধিকার করেছেন।
কঠিন লড়াই পেরিয়ে উচ্চমাধ্যমিকে সাঁওতালিতে রাজ্যে প্রথম মণিমালা (Jhargram)
ছোটবেলা থেকে ইচ্ছে ছিল মেয়েদেরকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা। তবে সকল ইচ্ছে যে পূর্ণ হয় তা নয়। দুই মেয়েকে উচ্চশিক্ষিত দেখে যেতে পারেননি মণিমালার বাবা। মনিমালা তখন বয়সে অনেকটাই ছোট। সেই সময় মৃত্যু হয় তার বাবার নিপেন বেসরার। এবার স্বামীর স্বপ্ন পূরণ করার জন্য চাষের মাঠে কাজ করেন তার স্ত্রী সহ তার মেয়েরা। আর চাষ করার পাশাপাশি এ বছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেন মণিমালা। তিনি ঝাড়গ্রাম (Jhargram) এর বেলপাহাড়ি গ্ৰামের বাসিন্দা।

যাত্রীদের জন্য জরুরি ঘোষনা, শনিবার বদলে যাচ্ছে হাওড়া-বর্ধমান মেমু ট্রেনের রুট
সাঁওতালি ভাষায় উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে রাজ্যে প্রথম হয়েছে মণিমালা বেসরা। তার প্রাপ্ত নম্বর ৪৫৭। জানা যায়, মণিমালা ও তার বোন ঝাড়গ্রামের রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যামন্দির স্কুলের ছাত্রী ৷ ঝাড়গ্রামের রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যামন্দিরে আদিবাসী ও লোধা সদর জনজাতির ছেলেমেয়েদের হস্টেলে থেকে পড়াশোনা করানো হয় ৷
তারা ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ার সময় থেকে ওই হস্টেলে আবাসিক হিসাবে পড়াশোনা করেছে ৷ এবারে সাঁওতালি ভাষায় উচ্চমাধ্যমিকে প্রথমস্থানাধিকারী মণিমালা বেসরা ৪৫৭নম্বর পেয়েছে ৷ তার বোন শেফালী ৪৪৩ নম্বর পেয়েছে ৷
চলতি বছরে উচ্চমাধ্যমিকে সাঁওতালি ভাষায় প্রথম হয় মণিমালা জানান, ‘আমার প্রথম ভাষা সাঁওতালি থাকলেও অন্য সব বিষয়গুলি ইংরেজিতে পরীক্ষা দিয়েছি।’ তার নম্বরও নজরকাড়া। সাঁওতালিতে ৮৬, ইংরেজিতে ৯০, ভূগোলে ৮৮, ইতিহাসে ৯৩, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ৮৭, ফিজিক্যাল এডুকেশনে ৯৯। মণিমালার কথায়, ‘হস্টেলে থেকে পড়াশোনা করেছি। মিশনের মহারাজ এবং স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সহযোগিতা ছাড়া এত ভালো রেজাল্ট কখনওই করতে পারতাম না’ (Jhargram)।



