সোনারপুরে আক্রান্ত অভিষেক! ডিম-পাথর বৃষ্টি, মারধরের ঘটনায় গ্রেফতার ৬

সবদিক নিউজ: ভোট-পরবর্তী হিংসায় ‘আক্রান্ত’ দলীয় কর্মীর বাড়ি পরিদর্শনে গিয়ে নজিরবিহীন ও মারাত্মক জনরোষের মুখে পড়লেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে মৃত এক তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে তাঁর ওপর চড়াও হয় উত্তেজিত জনতা। অভিষেককে লক্ষ্য করে ডিম, ইটের টুকরো এবং পাথর ছোড়ার পাশাপাশি তাঁকে রীতিমতো হেনস্থা ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এমনকী, তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরে ‘চোর’ স্লোগানও দেওয়া হয়। এই হাইপ্রোফাইল হামলার ঘটনার তদন্তে নেমে শনিবার রাতভর তল্লাশি চালিয়ে ইতিমধ্যেই ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে সোনারপুর থানার পুলিশ।
দুই হাসপাতাল ঘুরে বাড়ি ফিরলেন অভিষেক, সঙ্গে মমতা
শনিবারের এই ঘটনার পর সোনারপুরের আইন-শৃঙ্খলা এবং পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশি ঘেরাটোপে কোনোমতে অভিষেককে উদ্ধার করে প্রথমে কলকাতার ইএম বাইপাসের ধারের একটি নামী বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর চিকিৎসকেরা জানান, হাসপাতালে ভরতির প্রয়োজন নেই। এরপর তাঁকে মিন্টো পার্কের কাছে অপর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা একই পরামর্শ দেন। এই পুরো সময়ে অভিষেকের পাশে ছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শেষ পর্যন্ত শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে কালীঘাটের বাড়িতে ফিরে যান অভিষেক।
এই ঘটনার পরেই নতুন বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ক্ষুব্ধ মেজাজে জানান, “আপাতত বাড়িতেই অভিষেকের চিকিৎসা চলবে। স্যালাইন থেকে শুরু করে অক্সিজেন, যা যা প্রয়োজন, সব বাড়িতেই দেওয়া হবে। যদি পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়, তবে প্রয়োজন পড়লে হায়দরাবাদে নিয়ে গিয়ে ওঁর উন্নত চিকিৎসা করানো হবে।”
ভিডিও ফুটেজ দেখে মধ্যরাতে পুলিশের মেগা অপারেশন
অন্য দিকে, ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে শনিবার রাত থেকেই সোনারপুরের বিস্তীর্ণ এলাকায় চিরুনি তল্লাশি শুরু করে পুলিশ বাহিনী। হামলার সময়কার সিসিটিভি এবং বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে স্থানীয় ৬ জন বাসিন্দাকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের অনুমান, ধৃতরা সকলেই স্থানীয় এবং এই পরিকল্পিত হামলার পেছনে আরও বড় কোনো মাথা কাজ করছে। ধৃতদের ম্যারাথন জেরা করে এই ঘটনায় আর কারা জড়িত ছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। তবে রবিবার সকাল পর্যন্ত ধৃতদের পরিচয় নিয়ে মুখ খুলতে চায়নি সোনারপুর থানার পুলিশ। এই ঘটনার পর থেকে গোটা সোনারপুর এলাকা জুড়ে এখনও চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিবেশ তৈরি হয়ে রয়েছে।



