৬ সপ্তাহের মধ্যে সুদ সহ গ্র্যাচুইটি মেটাতে হবে! অবসরপ্রাপ্ত পুলিশকর্তার মামলায় রাজ্যকে নির্দেশ হাইকোর্টের

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ আবারও মানবিক সিদ্ধান্ত কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court)। রাজ্য পুলিশের এক অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকের সুদ সহ গ্র্যাচুইটির (Gratuity) বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিল উচ্চ আদালত। আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যকে এই টাকা মেটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডেডলাইন বেঁধে সুদ সহ গ্র্যাচুইটি মেটানোর নির্দেশ | (Calcutta High Court)
মামলাকারী প্রণব দত্ত একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশকর্তা। ১৯৭৮ সালে রাজ্য পুলিশের চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। প্রায় ২২ বছর চাকরি করার পর ২০০০ সালে হাবরা থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের দায়িত্ব পান। সেই বছর ঘটে যাওয়া এক ঘটনাই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়, কর্মজীবনে সৃষ্টি হয় জটিলতা।
আরও পড়ুনঃ রথের বিকেলে ধেয়ে আসছে ঝড়-বৃষ্টি! কলকাতা সহ একাধিক জেলায় হলুদ-কমলা সতর্কতাঃ আবহাওয়ার খবর
২০০০ সালের আগস্টে হাবরা থানার লক আপ থেকে একজন অভিযুক্ত নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন। সেই বছরেরই ১৩ আগস্ট হাবরা থানায় অভিযোগ দায়ের করে নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবার। শুরু হয় ঘটনার তদন্ত। সেই প্রক্রিয়ায় থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক প্রণব সহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হতে থাকে।
পুলিশ হেফাজত থেকে এক অভিযুক্তের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার এই ঘটনায় বিভাগীয় তদন্তের পাশাপাশি নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারের তরফে দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে ফৌজদারি মামলা শুরু হয়। তদন্ত শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছিল পুলিশ। পরবর্তীতে নিম্ন আদালতে বিচারপ্রক্রিয়া চলছিল।
বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালীনই চাকরি থেকে রিটায়ার করেন প্রণব। এরপর নিয়ম অনুসারে গ্র্যাচুইটি ও পেনশনের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানান। তাঁর সেই আবেদন কার্যকর না হওয়ায় রাজ্য প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হন। কিন্তু সেখানেও কোনও সুরাহা হয়নি।
প্রণবের আবেদন খারিজ করে দিয়ে ট্রাইব্যুনাল জানায়, তাঁর বিরুদ্ধে ফোজদারি মামলা বিচারাধীন হওয়ার কারণে তিনি অবসরকালীন ভাতা সহ অন্যান্য সুবিধা পাবেন না। এরপর এই জল গড়ায় কলকাতা হাইকোর্ট অবধি। ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে ২০১৩ সালে মামলা করেন এই অবসরপ্রাপ্ত পুলিশকর্তা। এবার সেই মামলাতেই রায় দিল হাইকোর্ট।
মামলাকারীর আইনজীবী আশিস কুমার চৌধুরী আদালতে সওয়াল করেন, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের পেনশন বা গ্র্যাচুইটি তাঁদের দীর্ঘ কর্মজীবনের ন্যায্য ও অর্জিত অধিকার। এগুলি কোনও দয়া অথবা অনুদান নয়। সেই কারণে কোনও রকম যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া অনির্দিষ্টকালের জন্য এই টাকা আটকে রাখা আইনসম্মত হতে পারে না।
মামলাকারীর আইনজীবী আরও জানান, বর্তমানে তাঁর মক্কেল গুরুতর অসুস্থ। নিয়মিত ডায়ালিসিস চলছে। এই অবস্থায় ফৌজদারি মামলার অজুহাতে তাঁর প্রাপ্য টাকা আটকে রেখে দেওয়া অন্যায্য হওয়ার পাশাপাশি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গ্রহণযোগ্য না।

এরপর মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট বিধি খতিয়ে দেখে হাইকোর্ট। এরপর আদালত জানায়, কেবল ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে কোনও সরকারি কর্মীর অবসরকালীন প্রাপ্য টাকা অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য আটকে রেখে দেওয়া যায় না। যে নিয়মের উপর ভিত্তি করে মামলাকারীর অবসরকালীন প্রাপ্য টাকা এত বছর ধরে আটকে রাখা হয়েছে তা সংবিধানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ না। এরপরেই বড় নির্দেশ দেয় দুই বিচারপতির বেঞ্চ।
হাইকোর্টের নির্দেশ, মামলাকারী তথা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশকর্তার সুদ সহ গ্র্যাচুইটির বকেয়া টাকা মিটিয়ে দিতে হবে। এর জন্য রাজ্যকে ছয় সপ্তাহের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। এই সময়কালের মধ্যে সংশ্লিষ্ট টাকা মেটানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।




