0%

ঘুম কেড়ে নিচ্ছে স্মার্টফোন! ডিজিটাল আসক্তিতে বাড়ছে অনিদ্রা ও ক্লান্তি, বলছে সমীক্ষা – সবদিক

স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, আইপ্যাডের মতো ডিজিটাল প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা আট থেকে আশি, সব বয়সি ভারতীয়দের জন্য ডেকে আনছে ভয়ঙ্কর বিপদ। সাম্প্রতিক এক গবেষণা রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, গোটা ভারতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে ভারতীয় ঘুমে ব্যাঘাত ঘটছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ৮৭.৬% অংশগ্রহণকারী ঘুমোতে যাওয়ার আগে ফোনে ঘাঁটাঘাঁটি করে সময় কাটান বলে স্বীকার করেছেন। অনেক রাত পর্যন্ত না ঘুমিয়ে জেগে থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘাঁটাঘাঁটি করা, রিল ভিডিও দেখার কারণে বাড়ছে ঘুমের সমস্যা। ৩৩.৪% শহুরে ভারতীয় জানিয়েছেন, মানসিক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার কারণে বেড়েছে অনিদ্রার সমস্যা।

রাতে পর্যাপ্ত না ঘুমনোর কারণে কাজের ক্ষতি হচ্ছে ভারতীয়দের। ৫৭.৮% ভারতীয় পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ার কারণে কাজের সময় ক্লান্ত থাকেন। ২০২৫ সালের তুলনায় চলতি বছরে পরিমাণ বেড়েছে ৭.৮%। ভারতের মধ্যে দিল্লিতে ৬৪.৪%, বেঙ্গালুরুতে ৬১.৭% আর মুম্বইয়ে ৫৯.২% ভারতীয় কাজের সময় ক্লান্ত থাকেন। মুম্বইয়ের ৬২.৬%, চেন্নাইয়ের ৬১.৯% ও দিল্লির ৫৭.৪% মানুষ একটু পরিশ্রম করলেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন বলে জানিয়েছেন। এছাড়াও দেখা গেছে, মাত্র ১২% ভারতীয় রাতে ১২টার মধ্যে ঘুমোতে যান। ৬০% ভারতীয় রাত ১১টার মধ্যে ঘুমোতে যান। ২৯.১% ভারতীয় রাতে দেরিতে ঘুমোতে গেলেও সকালে কাজ থাকার জন্য তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে পড়তে বাধ্য হন। অর্থাৎ রাতে মাত্র ৫-৬ ঘণ্টা ঘুমোচ্ছেন তাঁরা। গত বছরের তুলনায় ভারতীয়দের মধ্যে মাঝরাতে ঘুমোতে যাওয়ার প্রবণতা আরও ১.৮% বেড়েছে। রাতে ঘুমের সমস্যার কারণে দিনে ক্লান্ত লাগা, ঢুলুনির পরিমাণ বেড়েছে ৭.৮%। তবে ঘুমের সমস্যা অসুখ ডেকে আনতে পারে। এই ধারণাও ক্রমশ বাড়ছে ভারতীয়দের মধ্যে। ৩৫.৮% ভারতীয় মনে করেন ভালো বিছানা ও বালিশের জন্য ঘুম ভালো হয়। ৩৪.৮% ভারতীয় ঘুমের সমস্যা এড়াতে ডিজিটাল গ্যাজেট দূরে রাখার পক্ষপাতি।

শহুরে ভারতীয়দের ঘুমের প্যাটার্ন নিয়ে সমীক্ষা চালানো হয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। বিভিন্ন বয়সের, শহরের বাসিন্দা ও নানান রকম জীবনযাপনে অভ্যস্ত ভারতীয়দের কাছ থেকে তাঁদের ঘুম নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

সমীক্ষায় দেখা যায়, চেন্নাইয়ের বাসিন্দাদের মধ্যে বাকি মেট্রো শহরের বাসিন্দাদের তুলনায় দেরিতে ঘুমোতে যাওয়ার প্রবণতা কম (৪৮.৮%)। দেরিতে ঘুম থেকে ওঠার প্রবণতাও কম (২৩.৮%)। এরপর রয়েছে হায়দরাবাদ। ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে কলকাতা। ৭৫.৫% কলকাতাবাসী দেরিতে ঘুমোতে যায়। ৫৩.১% কলকাতাবাসী দেরিতে ঘুমোতে যায় তবে তাড়াতাড়ি ঘুম ভেঙে যায়। মুম্বইয়ের নাগরিকদের মধ্যে ঘুমের সমস্যা সবচেয়ে বেশি। ৭৬.৫% মুম্বইয়ের বাসিন্দারা দেরিতে ঘুমোতে যায়।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker