স্ত্রীর কর্মজীবন নিয়ে নিম্ন আদালতের ‘সেকেলে’ ধ্যানধারণা গুঁড়িয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট

সবদিক নিউজ: সুপ্রিম কোর্ট এক যুগান্তকারী রায়ে জানিয়েছে যে, একজন উচ্চশিক্ষিত মহিলার নিজের পেশায় নিযুক্ত থাকা বা সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে স্থিতিশীল পরিবেশে বসবাস করার সিদ্ধান্তকে কোনোভাবেই বৈবাহিক ‘নিষ্ঠুরতা’ বা ‘পরিত্যাগ’ (Desertion) হিসেবে গণ্য করা যাবে না। নিম্ন আদালত ও গুজরাট হাইকোর্টের আগের একটি রায়কে ‘পশ্চাৎপদ’ এবং ‘অত্যন্ত রক্ষণশীল’ বলে অভিহিত করে শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়েছে, একজন মহিলার বিয়ের অর্থ এই নয় যে তাঁর নিজস্ব পরিচিতি বা পেশাগত স্বাধীনতা বিসর্জন দিতে হবে। বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করেছে যে, শিক্ষিত মহিলাদের ওপর বৈবাহিক বাধ্যবাধকতার নামে সেকেলে সামাজিক ধ্যানধারণা চাপিয়ে দেওয়া আইনত অসিদ্ধ।
এই মামলার প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, ২০০৯ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক লেফটেন্যান্ট কর্নেলের সঙ্গে এক দন্তচিকিৎসকের বিয়ে হয়। বিয়ের পর ওই মহিলা স্বামীর কর্মস্থল কার্গিলেও গিয়েছিলেন। কিন্তু গর্ভাবস্থায় এবং পরবর্তীতে তাঁর কন্যাসন্তানের শারীরিক অসুস্থতার (সিজার-জনিত সমস্যা) কারণে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে তিনি আমেদাবাদে চলে আসেন। সেখানে তিনি নিজের একটি ডেন্টাল ক্লিনিকও স্থাপন করেন। ফ্যামিলি কোর্ট এবং হাইকোর্ট স্বামীর পক্ষে বিবাহবিচ্ছেদের রায় দিয়ে জানিয়েছিল যে, ওই মহিলা তাঁর বৈবাহিক কর্তব্যের চেয়ে কেরিয়ারকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন এবং স্বামীর কর্মস্থলে না থেকে ‘কর্তব্য চ্যুতি’ করেছেন। নিম্ন আদালতের এই দৃষ্টিভঙ্গিকে ‘সামন্ততান্ত্রিক’ এবং ‘বিংশ শতাব্দীর আধুনিকমনস্কতার পরিপন্থী’ বলে কঠোর সমালোচনা করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে একজন যোগ্য মহিলার নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা বা সন্তানের সুস্থ পরিবেশে বড় করার সিদ্ধান্তকে অপরাধ হিসেবে দেখা যায় না। বিচারপতির কথায়, বিবাহ কখনও কোনো মহিলার স্বতন্ত্র সত্তা মুছে দিতে পারে না। দাম্পত্য সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখা স্বামী ও স্ত্রী উভয়েরই যৌথ দায়িত্ব, এখানে একজন অন্যজনের ওপর নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারেন না। শেষ পর্যন্ত আদালত ‘ইরিট্রিভিবল ব্রেকডাউন অফ ম্যারেজ’ বা সম্পর্কের চূড়ান্ত অবনতির ভিত্তিতে বিবাহবিচ্ছেদ বহাল রাখলেও, মহিলার বিরুদ্ধে ওঠা নিষ্ঠুরতা ও ত্যাগের অভিযোগ এবং নিম্ন আদালতের সমস্ত কটু মন্তব্য নথিপত্র থেকে মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে।



