তৃণমূলের ‘ভোট ম্যানেজার’ বলেই পরিচিতি! কীভাবে তৈরি হয়েছিল সোনা পাপ্পুর প্রভাবের সাম্রাজ্য?

বাংলা হান্ট ডেস্ক : অবশেষে তদন্তকারীদের জালে ধরা পড়ল কসবা-ঢাকুরিয়া এলাকার কুখ্যাত সোনা পাপ্পু (Sona Pappu)। সোমবার দীর্ঘ ১০ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই খোঁজ চলছিল তাঁর। সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, বেআইনি নির্মাণ, জমি দখল এবং সিন্ডিকেট চক্রের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর নাম জড়িয়ে ছিল বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং প্রভাব খাটিয়েই এলাকায় নিজের শক্ত ঘাঁটি তৈরি করেছিলেন তিনি।
কে এই সোনা পাপ্পু (Sona Pappu)?
প্রসঙ্গত, রাজ্যে তৃণমূলের শাসনকালে ঢাকুরিয়ার কাঁকুলিয়া রোডকে কেন্দ্র করে একসময় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ছিল, ওই এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের নেপথ্যে ছিলেন সোনা পাপ্পু। অভিযোগ, কলকাতা পুরনিগমের ৬৭ এবং ৯১ নম্বর ওয়ার্ডে শাসকদলের হয়ে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণমূলক কাজ সামলাতেন সোনা পাপ্পু। ভোটের সময় বিরোধীদের ভয় দেখানো, ঘরবন্দি করে রাখা এবং এলাকায় দাপট বজায় রাখার অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
উল্লেখ্য, কয়েক মাস আগে কলকাতা পুরনিগমের ৬৭ এবং ৯১ নম্বর ওয়ার্ডে একাধিক অবৈধ নির্মাণ নিয়ে অভিযোগ জমা পড়ে। প্রায় ৫০ থেকে ৫৫টি বেআইনি নির্মাণের পিছনে সোনা পাপ্পুর ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। তবে সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তৃণমূলের একাধিক নেতার সঙ্গে সোনা পাপ্পুর ছবি ছড়িয়ে রয়েছে। বহু অনুষ্ঠানে তৃণমূল নেতাদের পাশে দেখা যেত তাকে।

আরও পড়ুন : গ্রেফতারির আশঙ্কা অভিষেকের! তড়িঘড়ি হাইকোর্টের দ্বারস্থ তৃণমূলের ‘যুবরাজ’
জানা যায়, বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে পাপ্পুর বালিগঞ্জের কাছে সোনার ব্যবসা রয়েছে। পাশাপাশি একটি রেস্তোরাঁও চালান তিনি। ব্যবসায়ী হিসেবেই নিজেকে পরিচয় দিতেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ‘পাপ্পু’ নামের আগে জুড়ে যায় ‘সোনা’। কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ না দিলেও, স্থানীয় মহলে তাঁকে তৃণমূলের ‘ভোট ম্যানেজার’ বলেই পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আতঙ্কের নাম হয়ে ওঠা সেই সোনা পাপ্পু এখন তদন্তকারীদের হেফাজতে। তাঁর গ্রেফতারির পর এই চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত, তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে।



