বিজেপির ‘বন্ধ দরজা’ কাদের জন্য খুলবে? নাম না করে বড় বার্তা শমীকের

Bangla Jago desk: দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পশ্চিমবঙ্গের শাসন ক্ষমতায় এসেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে পদ্ম শিবিরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য যে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন, তা সরকার গঠনের আগে এবং পরে বারবার স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। দলের এই নীতিকে সামনে রেখেই রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের বিজেপিতে যোগদানের বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। দলে যাতে কোনওভাবেই নীতিহীন সুযোগসন্ধানীদের প্রবেশ না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে প্রথম থেকেই সতর্ক রয়েছে নেতৃত্ব।
সম্প্রতি দিল্লির বঙ্গভবনের সামনে মুখ্যমন্ত্রীর একটি সামান্য সময়ের সৌজন্য সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দলের অবস্থান স্পষ্ট করে শমীক ভট্টাচার্য জানিয়ে দিয়েছেন যে, বিশেষ কিছু মানুষের জন্য বিজেপির দরজা চিরতরে বন্ধ। রাজনৈতিক মহলের খবর অনুযায়ী, ক্ষমতার পরিবর্তনের পর অন্য দলের বহু প্রথম সারির মুখই এখন বিজেপিতে আসার জন্য উন্মুখ হয়ে রয়েছেন এবং পরোক্ষে দরবারও শুরু করেছেন। এই প্রসঙ্গে রাজ্য সভাপতি কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতার লাইনের উল্লেখ করে জানান যে, পর্দার আড়ালে অনেকেই এখন অবনীকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন। তিনি স্পষ্ট করেন, সাধারণ স্তরে কেউ দলে আসতে চাইলে নেতৃত্ব তা বিবেচনা করবে, কিন্তু যারা সিন্ডিকেট রাজ, কয়লা ও বালি পাচার কিংবা চাকরি বিক্রির মতো দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাদের জন্য বিজেপির দরজা কোনও অবস্থাতেই খুলবে না।
একই সঙ্গে বিনোদন জগতের ব্যক্তিত্ব পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য ও সামাজিক মাধ্যমে তাঁর অবস্থান বদল নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা নিয়েও দলের মনোভাব স্পষ্ট করা হয়েছে। জল্পনা তৈরি হয়েছিল যে, অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষের পথ অনুসরণ করে তিনিও হয়তো গেরুয়া শিবিরে পা বাড়াতে পারেন। তবে এই সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিয়ে শমীক ভট্টাচার্য কড়া সুরে জানিয়েছেন যে, এই ধরনের মানুষদের বিজেপিতে কোনও স্থান নেই। তাঁর মতে, যেসব নিষ্ঠাবান ও সক্রিয় কর্মীরা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে লড়াই করে দলকে আজ ক্ষমতায় এনেছেন, তাদের ওপর ভরসা রেখেই আগামী দিনে সরকার ও দল এগিয়ে চলবে। এই মুহূর্তে বাইরে থেকে লোক আমদানির কোনও প্রয়োজন বিজেপির নেই।



