0%

Chandannagar Corporation Crisis 6 TMC Councillors Resign

রাকেশ চক্রবর্তী, হুগলি: হুগলি জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক পরিকাঠামোয় এবার এক নজিরবিহীন বিপর্যয় নেমে এল। গতকালই ভদ্রেশ্বর পুরসভার চেয়ারম্যান-সহ ৮ জন কাউন্সিলরের পদত্যাগের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই, এবার চন্দননগর পুরনিগমেও (Corporation) লাগল মারাত্মক ভাঙনের ছোঁয়া। বিধানসভা নির্বাচনে বিদায়ী মন্ত্রী তথা তৃণমূল প্রার্থী ইন্দ্রনীল সেনের পরাজয়ের পর থেকেই যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে জেলা তৃণমূল। এবার সরাসরি চন্দননগর কর্পোরেশনের ৬ জন তৃণমূল কাউন্সিলর একযোগে তাঁদের পদত্যাগপত্র ইমেল মারফত কর্পোরেশনের কমিশনারের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন। এই ইস্তফাকারীদের তালিকায় রয়েছেন চন্দননগরের দাপুটে নেতা তথা সদ্য পদত্যাগী ডেপুটি মেয়র মুন্না আগরওয়ালও। এই ঘটনার জেরে শুক্রবার পুরনিগমের পূর্বনির্ধারিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘বোর্ড মিটিং’ তড়িঘড়ি বাতিল করা হয়েছে।

মাঝরাতে রবীন্দ্র ভবনে রুদ্ধদ্বার বৈঠক, তুঙ্গে সংঘাত

স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত চন্দননগরের রবীন্দ্র ভবনে তৃণমূল কাউন্সিলরদের মধ্যে একটি হাইভোল্টেজ বৈঠক চলে। বিদায়ী বিধায়ক ইন্দ্রনীল সেনের সঙ্গে চন্দননগরের যে সমস্ত কাউন্সিলরদের সম্পর্ক বরাবরই ‘অম্ল-মধুর’ ছিল, মেয়র রাম চক্রবর্তীর উপস্থিতিতে তাঁরাই মূলত এই বৈঠকে বসেন। এই বৈঠকের পরই চন্দননগর কর্পোরেশনের শুক্রবারের বোর্ড মিটিং বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অন্য দিকে, যাঁরা চন্দননগরের রাজনীতিতে মূলত ‘ইন্দ্রনীল অনুগামী’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন, সেই শিবিরের ৬ জন কাউন্সিলর বৈঠক শেষ হতেই কমিশনারকে মেইল করে নিজেদের ইস্তফা পাঠিয়ে দেন। চন্দননগর কর্পোরেশনের মোট ৩৩টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২টি সিপিআইএম (CPIM)-এর দখলে থাকলেও বাকি ৩১টি ওয়ার্ডই ছিল তৃণমূলের পকেটে। কিন্তু এই গণ-ইস্তফার পর রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ ওলটপালট হয়ে গেল। এর আগে ভদ্রেশ্বর পুরসভার ২২টি ওয়ার্ডের বোর্ডও একইভাবে সঙ্কটে পড়েছে।

“পরিস্থিতি জটিল”, মানছেন খোদ তৃণমূল নেতারাও

এই চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে চন্দননগরের মেয়র রাম চক্রবর্তী জানান, “উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে নিয়ম অনুযায়ী আজ যে বোর্ড মিটিং হওয়ার কথা ছিল, তা আপাতত বাতিল করা হয়েছে। কাউন্সিলরদের পদত্যাগের বিষয়ে দলগতভাবে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট জানানো হবে।” অন্য দিকে, তৃণমূল কাউন্সিলর পার্থ দত্তও বর্তমান সঙ্কটের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, “চন্দননগরে একটা নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাই দলের সবাই মিলে একসঙ্গে বসে আলোচনা করা হয়েছে।”

“রত্নাকর বাল্মীকি হওয়ার চেষ্টা করছে”, কটাক্ষ বিজেপির

চন্দননগরে জোড়াফুল শিবিরের এই নজিরবিহীন কোন্দল ও ভাঙন নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন চন্দননগরের নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “যাঁরা এতদিন তৃণমূলের রাজত্বে ক্ষমতার অলিন্দে থেকে কাজ করেছেন, তাঁরা এখন বুঝতে পারছেন যে এই দলটা আর আমজনতা মেনে নেবে না। তাই প্রাণ বাঁচাতে সবাই এখন দল ছাড়ার পথ খুঁজছেন। সব রত্নাকর তো আর বাল্মীকি হতে পারে না, তবে ক্ষমতা হারিয়ে এরা এখন বাল্মীকি হওয়ার একটা মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে মাত্র।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হুগলি জেলার একের পর এক পুরবোর্ড যেভাবে হাতছাড়া হওয়ার মুখে পড়ছে, তাতে ছাব্বিশের ভোটে হারের পর তৃণমূলের সাংগঠনিক অস্তিত্বই এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker