প্লাস্টিক ব্যবহার করলেই জরিমানা! বিকল্প পৌঁছে দিতে নতুন উদ্যোগ সরকারের

বাংলা হান্ট ডেস্ক : পরিবেশ দূষণ কমাতে এবং বর্ষাকালে জল জমার সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনতে নতুন পরিকল্পনা রাজ্য সরকারের (West Bengal Government)। দীর্ঘদিন ধরেই প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও তার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এবার সেই পরিস্থিতি বদলাতে বাজারগুলিতে বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি নিয়মভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের পথেও হাঁটতে চলেছে প্রশাসন।
রাজ্য সরকারের (West Bengal Government) উদ্যোগে বন্ধ প্লাস্টিক
রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী তিন মাসের মধ্যে কলকাতাসহ বিভিন্ন জেলার গুরুত্বপূর্ণ বাজার এলাকায় কাপড়ের ব্যাগ সরবরাহের জন্য স্বয়ংক্রিয় ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন করা হবে। এর ফলে ক্রেতারা সহজেই পরিবেশবান্ধব ব্যাগ কিনতে পারবেন। একই সঙ্গে প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহার করলে, ব্যক্তিদের জরিমানার মুখে পড়তে হবে।
শহরের নিকাশি ও খাল সংস্কারের কাজ পরিদর্শনে গিয়ে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, প্লাস্টিক বর্জ্য জল নিষ্কাশন ব্যবস্থার অন্যতম বড় বাধা। পুরসভার পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছে, নর্দমা, ম্যানহোল এবং পাম্পিং স্টেশনের বিভিন্ন অংশে প্লাস্টিক জমে যাওয়ায় বৃষ্টির জল দ্রুত বেরোতে পারে না। এর জেরে পাম্পিং ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
২০২২ সালে রাজ্য সরকার একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও বাস্তবে সেই নিয়ম সর্বত্র কার্যকর হয়নি।
মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের কথায়, “আমরা বিভিন্ন বাজারে কাপড়ের ব্যাগের ভেন্ডিং মেশিন বসানোর কাজ শুরু করছি। আগামী তিন মাসের মধ্যেই এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। মেশিন চালু হয়ে গেলে প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানার ব্যবস্থা করা হবে।” পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অব্যবহৃত প্লাস্টিক যেখানে-সেখানে ফেলে দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। কারণ এই বর্জ্যই শেষ পর্যন্ত নিকাশি ব্যবস্থার স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে এবং জল জমার সমস্যা বাড়িয়ে তোলে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, ১২০ মাইক্রনের কম পুরুত্বের প্লাস্টিককে সাধারণত একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের তালিকায় ধরা হয়। পুনর্ব্যবহারের ক্ষেত্রে এর অর্থনৈতিক মূল্য অত্যন্ত কম হওয়ায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এগুলি বর্জ্যে পরিণত হয়। দীর্ঘ সময় ধরে পরিবেশে পড়ে থেকে এই প্লাস্টিক ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণায় ভেঙে যায় এবং মাটি ও জলাশয়ের জন্য মারাত্মক দূষণের কারণ হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন : ফর্মে সব তথ্য না দিতে পারলেও মিলবে অন্নপূর্ণা যোজনার ৩০০০ টাকা! স্পষ্ট হল অবশেষে
শুধু প্লাস্টিক নিয়ন্ত্রণ নয়, আবর্জনা ব্যবস্থাপনাকেও আরও সুশৃঙ্খল করতে উদ্যোগী হয়েছে সরকার। মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী সাত দিনের মধ্যে যেসব পরিবার শুকনো ও ভেজা বর্জ্য আলাদা করবে না, তাদের ক্ষেত্রে পুরসভার বর্জ্য সংগ্রহ পরিষেবা স্থগিত করা হবে।
রাজ্য প্রশাসনের বিশ্বাস, পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কঠোরতা বাড়ানো গেলে শহর ও শহরতলির পরিবেশ আরও পরিচ্ছন্ন হবে। একই সঙ্গে নিকাশি ব্যবস্থার উপর চাপও কমবে, যা বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।




