ঋতব্রতকে সমর্থনের ইনাম! কাজল, চন্দ্রনাথ-সহ বীরভূমের ৫ বিধায়কের নিরাপত্তা বাড়াল নবান্ন

সবদিক নিউজ: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বঙ্গে ঐতিহাসিক প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর থেকেই প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে রাজনীতির চেনা সমীকরণ। একসময়ের সর্বেসর্বা তৃণমূল কংগ্রেস এখন বিরোধী আসনে বসার পর সেখানেও আড়াআড়ি ফাটল ধরেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে দলের ভেতরেই ‘হাঁড়ি আলাদা’ করেছেন বিধায়কদের এক বড় অংশ। আর এই চরম গৃহযুদ্ধের আঁচ এবার এসে পড়েছে অনুব্রত মণ্ডলের খাসতালুক বীরভূমেও। জেলার ১১টি বিধানসভা আসনের মধ্যে যে মাত্র পাঁচটি আসন আদি তৃণমূল নিজেদের দখলে রাখতে পেরেছিল, এবার সেই পাঁচ বিধায়ককে নিয়েও চরম অস্বস্তিতে কালীঘাট। কারণ, সরকারি পালাবদল হতেই যেখানে বহু নেতার নিরাপত্তা কাটছাঁট করা হয়েছে, সেখানে বীরভূমের এই পাঁচ বিধায়কের নিরাপত্তা একলাফে বাড়িয়ে দিয়েছে নতুন প্রশাসন।
ঋতব্রতকে সমর্থনের ‘ইনাম’? অতিরিক্ত সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন
এবারের হাই-ভোল্টেজ নির্বাচনে ২৯৪টি আসনের মধ্যে মাত্র ৮০টি আসনে জিততে পেরেছে ঘাসফুল শিবির। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দলের সিংহভাগ হেভিওয়েট মন্ত্রীরাই ধরাশায়ী হয়েছেন। ভোটের এই ভরাডুবির পরেই দলবিরোধী কাজের অভিযোগে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহারা দল থেকে বহিষ্কৃত হতেই তৈরি হয় ‘আসল তৃণমূল’ বা ‘ভাল তৃণমূল’ নামের নতুন গোষ্ঠী।
তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জনই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে লিখিত সমর্থন জানান। আর এই ৫৮ জনের তালিকায় রয়েছেন বীরভূমের পাঁচ বিধায়কও। ঋতব্রতকে সমর্থন করার পরপরই রাজ্য সরকারের তরফে এই পাঁচ বিধায়কের নিরাপত্তা একধাক্কায় বহু গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। লালবাজার ও জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রত্যেক বিধায়কের সুরক্ষায় অতিরিক্ত দু’জন করে আধুনিক অস্ত্রধারী কমান্ডো বা সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে।
যাঁদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে তাঁরা হলেন, বীরভূম জেলা পরিষদের বর্তমান সভাধিপতি তথা হাঁসনের বিধায়ক কাজল শেখ, নলহাটির বিধায়ক রাজেন্দ্রপ্রসাদ সিং, মুরারইয়ের বিধায়ক মোশারফ হোসেন, প্রাক্তন হেভিওয়েট মন্ত্রী তথা বোলপুরের বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহা এবং নানুরের বিধায়ক বিধানচন্দ্র মাঝি।
এবার লক্ষ্য দিল্লি! লোকসভাতেও কি বিদ্রোহের নেতৃত্বে কাকলি?
বিধানসভার পরিষদীয় দলে এই মেগা ভাঙনের পর রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, এবার দিল্লির সংসদীয় দলেও ভাঙন একেবারেই অবধারিত। সূত্রের খবর, লোকসভার মোট তৃণমূল সাংসদদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই এবার দল ছাড়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বাংলায় যে বিদ্রোহের সলতে পাকিয়েছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, ঠিক একই কায়দায় এবার দিল্লিতে দলের সংসদীয় নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের নেতৃত্বে বড়সড় বিদ্রোহ হতে চলেছে বলে জোর খবর। সব মিলিয়ে, ছাব্বিশের বঙ্গে ক্ষমতা হারানোর পর মমতার দুর্গ যেভাবে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে, তা স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে নজিরবিহীন।



