জিটিএ দুর্নীতিতে তদন্তের হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর, পাহাড়ে শিক্ষক-পুলিশ নিয়োগের বড় ঘোষণা

সবদিক নিউজ: মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে প্রথম পাহাড় সফরেই জিটিএ দুর্নীতি নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। কার্শিয়াংয়ে প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি জনকল্যাণ শিবিরে যোগ দিয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। সভামঞ্চ থেকেই স্পষ্ট জানিয়ে দেন, গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা জিটিএ-র মাধ্যমে নিয়োগে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এদিন পাহাড়ে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের আমলে রাজ্যে “নেগেটিভ সরকার” চলেছে। ঠিকমতো নিয়োগ হয়নি, উলটে জিটিএ-র মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, “না খাউঙ্গা, না খানে দুঙ্গা।” তাঁর দাবি, বিজেপি সরকারের আমলে নিয়োগে কোনওরকম দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, জিটিএ-র শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে ইতিমধ্যেই সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। সেই প্রসঙ্গ টেনেই এদিন পাহাড়বাসীকে আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, শুধু তদন্ত নয়, পাহাড়ে দ্রুত নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়াও শুরু হবে। শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই পুলিশে বড়সড় নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষক পদেও নিয়োগ হবে। তবে সেই নিয়োগ সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় পাহাড়ের যুবসমাজের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। কার্শিয়াংয়ের সভা থেকে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকেও নিশানা করেন শুভেন্দু। তাঁর কটাক্ষ, “আগের মুখ্যমন্ত্রী শুধুমাত্র পর্যটক হিসাবে পাহাড়ে ঘুরে যেতেন। কিন্তু আমি এখানে পর্যটক হিসাবে আসিনি, কাজ করতে এসেছি।” তাঁর দাবি, পাহাড়ের উন্নয়নে এবার পরিকল্পনা করে কাজ হবে এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে উন্নয়নের গতি বাড়বে।
শুভেন্দু আরও জানান, ডবল ইঞ্জিন সরকারের সমস্ত সুবিধা পাহাড়ের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন—সব ক্ষেত্রেই সরকার ধাপে ধাপে কাজ করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম পাহাড় সফর শুধু প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জিটিএ দুর্নীতিতে তদন্তের হুঁশিয়ারি এবং শিক্ষক-পুলিশ নিয়োগের ঘোষণা পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।



