0%

প্রেসক্রিপশন ছাড়া আর মিলবে না কাশির সিরাপ, কড়া নির্দেশ কেন্দ্রের – সবদিক

য়াদিল্লি: কাশি হলেই আর ইচ্ছেমতো ওষুধের দোকান থেকে কাশির সিরাপ কিনে খাওয়া যাবে না। কাশির ওষুধের অপব্যবহার রুখতে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, চিকিৎসকের বৈধ প্রেসক্রিপশন ছাড়া দেশের কোনও প্রান্তেই কাশির সিরাপ বা সিরাপ-জাতীয় ওষুধ বিক্রি করা যাবে না।

এতদিন বহু কাশির সিরাপ ‘ওভার দ্য কাউন্টার’ (ওটিসি) ওষুধ হিসেবে সহজেই পাওয়া যেত। কিন্তু সম্প্রতি ১৯৪৫ সালের ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিক অ্যাক্ট-এর অধীনে থাকা ‘শিডিউল কে’ তালিকা থেকে ‘সিরাপ’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে সিরাপ জাতীয় ওষুধ আর ওটিসি হিসেবে গণ্য হবে না। অর্থাৎ, এখন থেকে যে কোনও কাশির সিরাপ কিনতে হলে নথিভুক্ত চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন দেখানো বাধ্যতামূলক।

– বিজ্ঞাপন –

স্বাস্থ্য মন্ত্রকের এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে শিশুদের মৃত্যুর একাধিক ঘটনা। ২০২৫ সালে মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে একটি নির্দিষ্ট কাশির সিরাপ খাওয়ার পর ১২ জন শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কিডনি বিকল হয়ে মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসে। এরপর বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কাশির ওষুধ পরীক্ষা করে কিছু ক্ষেত্রে ডাইইথিলিন গ্লাইকল (DEG), ইথিলিন গ্লাইকল (EG) এবং কোডেইন-এর মতো ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের রাসায়নিক রক্তে মিশলে লিভার ও কিডনির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. প্রিয়ঙ্কর পাল জানিয়েছেন, অনেক অভিভাবক ওষুধের উপাদান না দেখেই শিশুদের কাশির সিরাপ খাইয়ে দেন। বিশেষ করে ক্লোরফেনিরামিন ম্যালিয়েটফিনাইলেফ্রিন-যুক্ত কিছু ওষুধ ছোটদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এর ফলে অতিরিক্ত ঘুম, তন্দ্রাচ্ছন্নতা, আচরণগত পরিবর্তন এমনকি মস্তিষ্কের কার্যকারিতার উপরও প্রভাব পড়তে পারে।

চিকিৎসকদের একাংশের মতে, কাশির সিরাপ খেলেই যে কাশি সেরে যাবে, তার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি খুবই সীমিত। কাশি কেন হচ্ছে, তার কারণ নির্ণয় করাই সবচেয়ে জরুরি। ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ, অ্যালার্জি, ব্রঙ্কোস্প্যাজম কিংবা অন্য কোনও শ্বাসযন্ত্রের সমস্যার কারণে কাশি হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ না খেয়ে মূল রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

কেন্দ্রের নতুন নির্দেশিকার ফলে ভবিষ্যতে কাশির ওষুধের অবাধ ব্যবহার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করছে স্বাস্থ্য মহল।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker