0%

বিষ ক্যাপসুলের মাধ্যমে ১৫,০০০ মানুষকে হত্যার ছক! মুম্বইয়ে ধৃতের কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেল পুলিশ

সবদিক নিউজ:মুম্বইয়ে (Mumbai ) এক ভয়াবহ নাশকতার ছক ভেস্তে দিয়েছে পুলিশ। অভিযোগ, প্রায় ১৫ হাজার মানুষকে বিষ খাইয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন পুণের বাসিন্দা ফৈয়াজ প্রেমজি। সেই উদ্দেশ্যেই তিনি পুণে থেকে মুম্বইয়ে এসে ডোংরি এলাকায় একটি হোটেলে ওঠেন এবং কয়েক দিন ধরে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন। তদন্তে উঠে এসেছে, টানা ১৫ দিন ধরে তিনি প্রায় ১৫ হাজার ক্যাপসুলে ইঁদুর মারার বিষ ভরেছিলেন। এরপর সেগুলি নিয়ে একটি ধর্মীয় শোভাযাত্রাকে লক্ষ্য করে মুম্বইয়ে পৌঁছে যান। পুলিশের দাবি, সময়মতো সন্দেহ হওয়ায় বড়সড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে এবং তাঁর পরিকল্পনার পিছনে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিষ ক্যাপসুলের মাধ্যমে ১৫,০০০ মানুষকে হত্যার ছক মুম্বইয়ে (Mumbai)

তদন্তকারী সূত্রের দাবি, জেরার সময় ফৈয়াজ প্রেমজি চাঞ্চল্যকর বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর কথায়, তিনি কাউকে হত্যা করতে যাচ্ছিলেন না, বরং একটি ‘মহৎ কাজ’ করতে চেয়েছিলেন। তবে এই দাবিকে গুরুত্ব না দিয়ে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেমজির ব্যক্তিগত জীবনেও একাধিক পরিবর্তন এসেছিল। প্রতিবেশীদের দাবি, বিবাহবিচ্ছেদের পর থেকেই তাঁর আচরণ অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে। প্রায় ১৫ দিন আগে তিনি মুম্বইয়ে এসে ডোংরির একটি হোটেলে ওঠেন। তদন্তকারীদের অনুমান, সেখানেই বসে তিনি পুরো পরিকল্পনা তৈরি করেন এবং কীভাবে ক্যাপসুলগুলি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হবে, তার রূপরেখা ঠিক করেন (Mumbai)।

 মধ্যপ্রাচ্য ফের সংঘাত! আমেরিকাকে ‘নরকযন্ত্রণা ভোগ’ করানোর হুঁশিয়ারি ইরানের

পুলিশের হাতে উদ্ধার হয়েছে মোট ১৪ হাজার ৯০০টি বিষভরা ক্যাপসুল। তদন্তকারীদের মতে, এত বিপুল সংখ্যক ক্যাপসুল একা হাতে মানুষের মধ্যে বিলি করা সম্ভব নয়। সেই কারণেই তাঁদের সন্দেহ, প্রেমজির সঙ্গে আরও কয়েকজন সহযোগী থাকতে পারে। কারা তাঁকে সাহায্য করেছে, কতগুলি ক্যাপসুল ইতিমধ্যেই অন্যদের হাতে পৌঁছেছে এবং সেই ব্যক্তিরা কোথায় রয়েছেন, তা এখন পুলিশের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অভিযুক্তকে দফায় দফায় জেরা করে এই সমস্ত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি তাঁর মোবাইল ফোন, যোগাযোগের নথি এবং আর্থিক লেনদেনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, প্রেমজির বাড়ি পুণের বিমান নগরে। তাঁর বাবা একটি রং তৈরির কারখানায় কাজ করেন। মা এবং বোন বর্তমানে ইরানে থাকেন। গত কয়েক বছরে তিনি একাধিকবার ইরান ও ইরাক সফর করেছেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে কয়েক দফায় ওই দুই দেশে গিয়েছিলেন এবং কিছুদিন কাজ করার পর ভারতে ফিরে আসেন।

শুক্রবার মুম্বইয়ের একটি শোভাযাত্রায় দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্যাপসুল বিলি করতে শুরু করেন প্রেমজি। তিনি দাবি করেন, এগুলি খেলে শরীরের ব্যথা কমবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে। তাঁর কথায় বিশ্বাস করে বহু মানুষ ক্যাপসুল সংগ্রহ করেন। কয়েকজন সেখানেই তা খেয়েও ফেলেন। পরে তাঁদের মধ্যে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানে তাঁদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তবে এই ঘটনাই গোটা ষড়যন্ত্রের ভয়াবহতা সামনে এনে দিয়েছে। পুলিশ আশঙ্কা করছে, যদি আরও বেশি মানুষ ওই ক্যাপসুল খেতেন, তাহলে পরিস্থিতি ভয়ংকর রূপ নিতে পারত।

Plot to kill 15,000 people using poison capsules in Mumbai.

 মোদীর মুকুটে নতুন পালক! এবার এই দেশের সর্বোচ্চ সম্মান পেলেন প্রধানমন্ত্রী

ঘটনার মোড় ঘুরে যায় শোভাযাত্রায় উপস্থিত কয়েকজন মহিলা স্বেচ্ছাসেবীর তৎপরতায়। তাঁরা লক্ষ্য করেন, এক ব্যক্তি বিনামূল্যে ক্যাপসুল বিলি করছেন এবং মানুষকে তা খেতে উৎসাহ দিচ্ছেন। বিষয়টি তাঁদের সন্দেহজনক মনে হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেন। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ প্রেমজিকে আটক করে এবং তাঁর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ক্যাপসুল উদ্ধার করে। এরপর পরীক্ষায় জানা যায়, ক্যাপসুলগুলিতে ইঁদুর মারার বিষ মেশানো ছিল। তদন্তকারীরা এখন পুরো ঘটনার নেপথ্য কারণ, সম্ভাব্য সহযোগী এবং এই ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখছেন। একইসঙ্গে ইতিমধ্যেই যাঁরা ক্যাপসুল নিয়েছিলেন বা খেয়েছিলেন, তাঁদেরও শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে (Mumbai)।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker