0%

মধ্যপ্রাচ্য ফের সংঘাত! আমেরিকাকে ‘নরকযন্ত্রণা ভোগ’ করানোর হুঁশিয়ারি ইরানের

বাংলাহান্ট ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ফের তীব্র অস্থিরতার আবহ তৈরি হয়েছে। ভারতীয় সময় রবিবার ভোর থেকে ইরান (Iran) ও আমেরিকার মধ্যে সামরিক সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। একের পর এক পাল্টা হামলা এবং কড়া হুঁশিয়ারিতে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে ইরান সরাসরি আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলার ফল হিসেবে ওয়াশিংটনকে “নরকযন্ত্রণা” ভোগ করতে হবে। একইসঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলিকেও সতর্কবার্তা দিয়েছে তেহরান। আন্তর্জাতিক মহলের আশঙ্কা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে গোটা পশ্চিম এশিয়া আরও বড় সংঘাতের মুখে পড়তে পারে।

ফের যুদ্ধের দামামা মধ্যপ্রাচ্যে, আমেরিকাকে কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের (Iran)

ঘটনার সূত্রপাত শনিবার, যখন মার্কিন বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভাণ্ডার লক্ষ্য করে হামলা চালায়। পাশাপাশি উপকূলবর্তী কয়েকটি রাডার কেন্দ্রেও আঘাত হানা হয় বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। এর জবাবে রবিবার ইরান কুয়েত ও বাহরিনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। যদিও এখনও পর্যন্ত এই হামলা নিয়ে আমেরিকার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সময়মতো সক্রিয় হয়ে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে। ফলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর এখনও সামনে আসেনি।

আরও পড়ুন: মার্কিন প্রেসিডেন্টের নতুন চমক! মুদ্রার পর এবার পাসপোর্টেও ট্রাম্পের ছবি

এই ঘটনার পর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) একটি কড়া বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, আমেরিকা যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করেছে এবং তারই জবাব হিসেবে এই পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আইআরজিসি আরও অভিযোগ করেছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যে সমঝোতা স্মারক বা সমঝোতার ভিত্তি তৈরি হয়েছিল, তা লঙ্ঘিত হলে ভবিষ্যতের সমস্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কার্যত অচল হয়ে পড়বে। একইসঙ্গে তারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলি ভবিষ্যতে আরও বড় হামলার মুখোমুখি হতে পারে। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক মার্কিন আক্রমণে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দুর্বল হয়নি এবং হরমুজ প্রণালীর উপর তাদের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণও অটুট রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। প্রতিদিন বিশ্বের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই পথ দিয়েই আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, গোটা বিশ্বের জ্বালানি বাজারেও তার প্রভাব পড়তে পারে। কুয়েত, বাহরিন, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহ-সহ উপসাগরীয় দেশগুলিতে আমেরিকার একাধিক সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। তাই সংঘাত আরও বাড়লে এই ঘাঁটিগুলিও হামলার ঝুঁকিতে থাকবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, তেলের দাম এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Ongoing unrest in the Middle East; Iran issues a stern warning to the US.

আরও পড়ুন: মোদীর মুকুটে নতুন পালক! এবার এই দেশের সর্বোচ্চ সম্মান পেলেন প্রধানমন্ত্রী

এই সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। রাষ্ট্রসংঘ সহ একাধিক দেশ ইতিমধ্যেই দুই পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। তবে ইরানের (Iran) কড়া হুঁশিয়ারি এবং পাল্টা সামরিক পদক্ষেপের পর পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও গভীর হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আদৌ সফল হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। আপাতত গোটা বিশ্বের নজর ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই, কারণ সামান্য ভুল সিদ্ধান্তও এই সংঘাতকে আরও ভয়াবহ রূপ দিতে পারে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker