বাদল অধিবেশনের আগেই ধুন্ধুমার! সর্বদল বৈঠক বয়কট মহুয়া-সৌগতদের

AK Bangla 24×7 Digital: সংসদের বাদল অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার আগেই চরম নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হলো দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে। রবিবার সংসদের অ্যানেক্স ভবনে ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকের সূচনালগ্নেই বড়সড় ধাক্কা খেল কেন্দ্র। নতুন দল ‘এনসিপিআই’ (NCPI)-এর সাংসদদের স্বাগত জানাতেই তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিরোধীরা। বৈঠক শুরু হতে না হতেই এর প্রতিবাদে তৃণমূল কংগ্রেস-সহ বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের একটা বড় অংশের সাংসদরা একযোগে কক্ষত্যাগ বা ওয়াকআউট করেন। তৃণমূলের মহুয়া মৈত্র ও সৌগত রায়দের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে যান কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, সিপিআই, ডিএমকে এবং শিবসেনার (উদ্ধব শিবির) সাংসদেরা।
মূলত সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ তৃণমূলত্যাগী ২০ জন সাংসদ মাস খানেক আগে যোগ দিয়েছেন ‘ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ বা এনসিপিআই-তে। তাঁরা শাসকদল এনডিএ (NDA)-কে সমর্থন জানিয়ে দলবদল করেছেন এবং লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আলাদা দল হিসেবে স্বীকৃতির আবেদন জানিয়েছেন। বাদল অধিবেশনেই যাতে সেই আইনি সিলমোহর মেলে, তার জন্য জোর তৎপরতা চালাচ্ছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়েরা। এই আবহে শনিবার সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু এনসিপিআই-কে চিঠি পাঠিয়ে সর্বদল বৈঠকে যোগদানের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। যদিও স্পিকার এখনও এই দলত্যাগী সাংসদদের আলাদা দলের স্বীকৃতি নিয়ে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত বা নির্দেশিকা জারি করেননি। শনিবার রাতে সংসদ সচিবালয় থেকে অধিবেশনে যোগদানকারী দলগুলির যে তালিকা প্রকাশ করা হয়, তাতে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের ২৮ জন সাংসদের কথাই উল্লেখ ছিল। তবে আলাদাভাবে ওই ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ যে পৃথক আসনে বসবেন, তা লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল মাত্র।
রবিবার সকাল ১১টায় বৈঠক শুরু হতেই সুদীপ ও কাকলিদের স্বাগত জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু এবং অর্জুন রাম মেঘাওয়াল। আর তাতেই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। বিরোধীদের মূল প্রশ্ন, স্পিকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের আগেই কীভাবে একটি দলকে সর্বদল বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হলো? এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সোশাল মিডিয়ায় সরব হন কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ জয়রাম রমেশ, যা শেয়ার করে বিরোধী ঐক্যের বার্তা দেন তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েন।
সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের এনসিপিআই দলে মিশে যাওয়ার বিষয়ে স্পিকার এখনও চূড়ান্ত সবুজ সঙ্কেত দেননি। তাঁদের জন্য সংসদে আলাদা আসন দেওয়া হলেও কোনও পৃথক ঘর বা অফিস বরাদ্দ করা হয়নি। তাহলে কীসের ভিত্তিতে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী তাঁদের সর্বদল বৈঠকে আমন্ত্রণ জানালেন? আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ওয়াকআউট করলাম। যে সমস্ত বিরোধী দল আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন, তাঁদের আন্তরিক ধন্যবাদ।” রবিবারের এই হাইভোল্টেজ ওয়াকআউটের ঘটনা স্পষ্ট করে দিল যে, আসন্ন বাদল অধিবেশনে এনসিপিআই শরিকদল হিসেবে শাসক শিবিরের পাশে দাঁড়ালেও, এই ‘দলবদল কাঁটা’র জেরে সংসদের অন্দরে বিরোধীদের মারাত্মক আক্রমণের মুখে পড়তে হবে মোদী সরকারকে।




