জাল নথিতে NEET মামলা! অস্বস্তিতে আইনজীবীরা, একের পর এক আবেদন প্রত্যাহারের নজির

নিট (NEET-UG) প্রশ্নফাঁস মামলাকে ঘিরে নতুন বিতর্ক সামনে এল। আদালতে জমা পড়া একাধিক মামলায় ভুয়ো বা ভুল নথি ব্যবহারের অভিযোগে এবার চরম অস্বস্তিতে পড়েছেন আইনজীবীরাই। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেক আইনজীবী নিজেরা আদালতে সওয়াল করতে না গিয়ে জুনিয়রদের মাধ্যমে মামলা প্রত্যাহারের আবেদন জানাচ্ছেন।
মামলার সঙ্গে যুক্ত এক আইনজীবীর কথায়, “এত বড় সর্বভারতীয় পরীক্ষা নিয়ে ভুল নথি দিয়ে মামলা করা হয়েছে। নথি সঠিক কি না, তা আইনজীবীদের পক্ষে আগে থেকে যাচাই করা সম্ভব নয়। ফলে আদালতের সামনে আমাদেরই বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হচ্ছে।”
– বিজ্ঞাপন –
আইনজীবীদের একাংশের দাবি, জাল বা বিভ্রান্তিকর নথি ব্যবহার করে মামলা দায়েরের পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। তাঁদের মতে, কিছু পরীক্ষার্থী প্রশ্নফাঁস বিতর্কের আবহে কেন্দ্রীয় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। আবার কেউ কেউ চিকিৎসাবিদ্যায় পড়ার আগ্রহ না থাকা সত্ত্বেও পারিবারিক চাপে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। পরে ফল প্রকাশের পর দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সুযোগ না পাওয়ার দাবি প্রতিষ্ঠা করতে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে বলে দাবি তাঁদের।
তবে আইনজীবীদের মতে, সব মামলাকেই এক চোখে দেখা ঠিক হবে না। প্রকৃত অভিযোগ নিয়ে বহু পরীক্ষার্থী এখনও আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কিছু ভুয়ো নথির কারণে গোটা প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ছে এবং প্রকৃত অভিযোগকারীরাও সমস্যায় পড়ছেন।
প্রসঙ্গত, NEET-UG প্রশ্নফাঁস নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক চলছে। সিজেপি-সহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের আন্দোলন, বিক্ষোভ এবং বিরোধীদের লাগাতার চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। ইতিমধ্যেই ২১ জুন অনুষ্ঠিত পুনঃপরীক্ষার ফলও প্রকাশিত হয়েছে।
এদিকে আদালতে ভুয়ো নথি জমা পড়ার অভিযোগ সামনে আসায় ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় নথি যাচাইয়ের বিষয়টি আরও কঠোর হতে পারে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁদের মতে, আদালতের সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বিচারব্যবস্থার উপরও অযথা চাপ তৈরি হচ্ছে। ফলে প্রকৃত অভিযোগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় ভুয়ো মামলার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি।
বিজ্ঞাপন



