0%

প্রতি আধঘণ্টায় ১ জনের মৃত্যু! কঙ্গোয় আরও মারাত্মক ইবোলা সংক্রমণ, প্রাণীদেহ থেকে ছড়াচ্ছে রোগ

এ যেন আরেক মহামারী! নেই চেনাজানা কোনও উপসর্গ, নেই প্রতিষেধকও। খুব কম সময়ের মধ্যে নিজেকে সবরকম প্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গে যুঝে নিতে সক্ষম মারণ ইবোলা ভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট। যা গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো (DR কঙ্গো) এবং সম্প্রতি উগান্ডার জনজীবন ভয়াবহ করে তুলেছে অল্প কয়েকদিনে। এখনও পর্যন্ত মৃতের ২১০০ ছাড়িয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি আধঘণ্টায় একজনের প্রাণহানি হচ্ছে। সম্প্রতি ইবোলা পরিস্থিতি নিয়ে আরও ভয়াবহ ইঙ্গিত দিল বিখ্যাত আন্তর্জাতিক পত্রিকা ‘নেচার মেডিসিন।’ তার প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, শুধু মানুষে-মানুষে সংক্রমণ নয়, এবার ইবোলা ছড়াচ্ছে প্রাণীদেহ থেকেও। যা রুখে দেওয়ার কোনও উপায় নেই।

ফেব্রুয়ারি থেকে কঙ্গোয় ছড়িয়েছে ইবোলার নতুন প্রজাতি। বিপদের নাম ‘বুন্ডিবুজিও স্ট্রেন’। মনে করা হচ্ছিল, এটাই ইবোলার সাম্প্রতিকতম ভ্যারিয়েন্ট। যার কোনও প্রতিষেধক এখনও নেই। এর আগে ইবোলা ভাইরাসের অন্যান্য স্ট্রেনকে রুখতে যেসব ভ্যাকসিন ছিল, তা আর কার্যকর হচ্ছে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এটাই ইবোলার ভয়ংকরতম প্রাণঘাতী ভাইরাস। যা শুধু মানুষের সংস্পর্শে সংক্রমিত হচ্ছে না, প্রাণীর দেহ থেকেও ছড়িয়ে পড়ছে। আর সেটাই সবচেয়ে উদ্বেগের হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন।

আরও পড়ুন:

সংক্রামক রোগ নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করা কৃতিকা কুপ্পাল্লি জানাচ্ছেন, “ইবোলা কঙ্গো থেকে উগান্ডাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। আর এই সংক্রমণটা হয়েছে পুরোপুরি প্রাণীদের মাধ্যমে, যা একেবারে নতুন। আগে এটা শুধুমাত্র ব্যক্তির থেকে ব্যক্তির শরীর সংক্রমিত হতো। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এটা নতুন কোনও স্ট্রেন নয়। জেনেটিক গবেষণার ফল অনুযায়ী, ভাইরাসটি প্রায় স্বাধীনভাবে যে কোনও প্রাণী বা মানুষের শরীরে অবস্থান করছে। তার জন্য আগের কোনও প্রতিষেধক কাজ করছে না।”

সম্প্রতি ‘নেচার মেডিসিন’ পত্রিকায় কঙ্গো, উগান্ডা, বেলজিয়াম-সহ বেশ কয়েকটি দেশের বিজ্ঞানীদের গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। তাতে জানা যাচ্ছে, ২০০৭ ও ২০১২ সালে ইবোলার যে প্রজাতি ছড়িয়ে পড়েছিল, এখনকার ‘বুন্ডিবুজিও স্ট্রেন’ তার চেয়ে বেশ আলাদা। এর ঘনঘন জিনগত পরিবর্তন হচ্ছে। সেই কারণে এতদিনকার চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিয়ন্ত্রণে থাকছে না।

সংক্রামক রোগ নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করা কৃতিকা কুপ্পাল্লি জানাচ্ছেন, “ইবোলা কঙ্গো থেকে উগান্ডাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। আর এই সংক্রমণটা হয়েছে পুরোপুরি প্রাণীদের মাধ্যমে, যা একেবারে নতুন। আগে এটা শুধুমাত্র ব্যক্তির থেকে ব্যক্তির শরীর সংক্রমিত হতো। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এটা নতুন কোনও স্ট্রেন নয়। জেনেটিক গবেষণার ফল অনুযায়ী, ভাইরাসটি প্রায় স্বাধীনভাবে যে কোনও প্রাণী বা মানুষের শরীরে অবস্থান করছে। তার জন্য আগের কোনও প্রতিষেধক কাজ করছে না।”

রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব টেডরোস আধানম ঘেব্রিয়েসুস জানিয়েছেন, কঙ্গো, উগান্ডার ইবোলা পরিস্থিতি মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০১৪ ও ২০১৬ সালের কথা। যখন পশ্চিম আফ্রিকা জুড়ে মহামারীর আকার ধারণ করা ইবোলা প্রাণ কেড়েছিল ১১ হাজারের বেশি মানুষের। তখনই তার প্রতিষেধক তৈরি হয়। কিন্তু ২০২৬ সালের সংক্রমণ এযাবৎকালের সবচেয়ে ভয়াবহ। এখনও পর্যন্ত যার ভ্যাকসিন বানাতে এখনও সফল হয়নি চিকিৎসাবিজ্ঞান।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

শেয়ার

লিংক

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker