0%

“বেশি পেলে আইনত ব্যবস্থা নিক” আয় বহির্ভূত সম্পত্তি নিয়ে চ্যালেঞ্জ লক্ষ্মণ ঘোড়ুইয়ের

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: সম্পত্তি বৃদ্ধি, পরিবারের সদস্যদের চাকরি পাইয়ে দেওয়া এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কে জড়িয়েছেন দুর্গাপুর (Durgapur) পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ চন্দ্র ঘোড়ুই (Lakshman Ghorui)। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন বিজেপিরই প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি ধ্রুবজ্যোতি মুখোপাধ্যায়। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে রবিবার সাংবাদিক বৈঠক করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন বিধায়ক। তাঁর দাবি, পরিকল্পিতভাবে তাঁকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা চলছে এবং আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখেই নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।

কী বললেন বিধায়ক?

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধ্রুবজ্যোতি মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বিধায়ক হওয়ার পর লক্ষ্মণ ঘোড়ুইয়ের সম্পত্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি, নিজের প্রভাব খাটিয়ে মেয়ে, জামাই ও আত্মীয়দের চাকরি পাইয়ে দেওয়া, বিপুল পরিমাণ জমি এবং একাধিক গাড়ির মালিক হওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। এই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দাবিও জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, এই সমস্ত অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে লক্ষ্মণ ঘোড়ুই তাঁর নির্বাচনী হলফনামার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময় নিজের সম্পত্তির বিবরণ হলফনামায় জমা দিতে হয়। তিনি সেই নিয়ম মেনেই তাঁর সম্পত্তির হিসাব দিয়েছেন বলে দাবি করেন। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “আমাকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। শুধু আজ নয়, গত এক বছর ধরে প্রতিনিয়ত ফেসবুকে এসে আমার নামে অপপ্রচার করা হয়েছে। সামনে নির্বাচন আসছে, তাই আমার বিরুদ্ধে আবার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। নির্বাচনে দাঁড়াতে গেলে নিজের সম্পত্তির পরিমাণ জানাতে হয়। হলফনামায় আমার জমি-জায়গা ও সম্পত্তির যা বিবরণ রয়েছে, সবই দেওয়া আছে। সেখানে উল্লেখ করা তথ্যের বাইরে যদি আর কিছু খুঁজে পাওয়া যায়, তাহলে আমার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

বিধায়কের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে যিনি অভিযোগ তুলেছেন, তিনি নির্বাচনের পর একাধিকবার তাঁর কাছে এসেছিলেন। যদিও ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশ্যে আনেননি তিনি। এ প্রসঙ্গে লক্ষ্মণ ঘড়ুই বলেন, “যে ব্যক্তি আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এসব ছাপিয়েছেন, তিনি নির্বাচনের পর তিনবার আমার কাছে এসেছিলেন। আমি তাঁর নাম বলছি না। তবে শুনে রাখুন, ওই ব্যক্তি একজন বড় ব্যবসায়ী কাউন্সিলর। তিনি আমার কাছে এসেছিলেন।”

নিজের রাজনৈতিক উত্থান এবং পারিবারিক পটভূমির কথাও সাংবাদিক বৈঠকে তুলে ধরেন বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ কৃষক পরিবার থেকে উঠে এসে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি আজকের জায়গায় পৌঁছেছেন। তাঁর এই সাফল্যই একটি অংশের মানুষের ঈর্ষার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

লক্ষ্মণ ঘোড়ুইয়ের কথায়, “আমি গ্রাম থেকে উঠে আসা ছেলে। চাষির ঘরের সন্তান আমি। নিজে লাঙল ধরেছি, অক্লান্ত পরিশ্রম করে বড় হয়েছি। আমার মতো গ্রামের গরিব ঘরের ছেলে হঠাৎ বিধায়ক হয়ে গেলে ঈর্ষা তো হবেই। আমার এই সাফল্য ওরা সহ্য করতে পারছে না। সেই কারণেই এই ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। বারবার আমার পরিবারের নামে বদনাম ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। ঘুষ দিয়ে, টাকা-পয়সার প্রলোভন দেখিয়েও আমাকে কাবু করতে না পেরে এবার কীভাবে কালিমালিপ্ত করা যায়, সেই চেষ্টা চলছে।”

পেনশন প্রাপকদের জন্য বিজ্ঞপ্তি পূর্ব রেলের

বিধায়কের বক্তব্য, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। অন্যদিকে, অভিযোগকারী ধ্রুবজ্যোতি মুখোপাধ্যায়ের দাবি, বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। ফলে লক্ষ্মণ ঘোড়ুইকে ঘিরে সম্পত্তি বৃদ্ধি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এবং তাঁর পাল্টা বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুর্গাপুরের রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker